জ্বর ও ব্যথার উপশম হিসেবে প্যারাসিটামল

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

10 months ago | Date : October 29, 2016 | Category : বিবিধ | Comment : Leave a reply |

paracetamolপ্যারাসিটামল , অতি পরিচিত একটি ঔষধ। ছোট বড় সবার কাছে নাপা, নাপা এক্সট্রা বা এইস নামে পরিচিত। জ্বর ও ব্যথার উপশমক হিসাবে সবাই এই ঔষধ ব্যবহার করে।যথেষ্ট উপকারী এবং অনেকটা নিরাপদ বলে, বাংলাদেশের মত অন্যান দেশেও ব্যপক পরিচিত।
প্যারাসিটামল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলে আশাকরি আমাদের উপকারে আসবে।তাই নিছে আলোচনা করা হলঃ-
ব্যথার শ্রেণী বিভাগ ও ব্যথার কারন…
আমরা সাধারনত যে সমস্ত রোগে আক্রান্ত হই ব্যথা তাদের মধ্যে উল্লখ্য যোগ্য। ক্যাননা, হোচট খেয়ে পড়ে গেলেও ব্যথা, কেউ আঘাত করলেও ব্যথা, কেটে গেলেও ব্যথা। অর্থাৎ সকল কিছুর মূলে রয়েছে ব্যথা। তাই আজকে আমি এই ব্যথার কারন এবং প্যারাসিটামলের নিয়েই বসেছি ।
ব্যথাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথাঃ-
১.যে সমস্ত ব্যথা সোমাটিক স্নায়ুর সাহায্যে মস্তিষ্কে পৌছায়। যেমনঃ- ত্বক, অস্থিসন্ধি, পেশি ইত্যাদি জায়গা থেকে উৎপন্ন ব্যথা।
২.যে সমস্ত ব্যথা অটোনমিক বা স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুপথ দিয়ে মস্তিষ্কে পৌছায়। যেমনঃ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের আঘাত, ক্ষত, প্রদাহ, চাপ ইত্যাদি।
আমাদের সবারই ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা রয়েছে। চাপ বা অনুরোপ কারনে যে অবস্থায় ব্যথার অনভূতি করা যায়, সেই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পেইন থ্রেসহোল্ড বলা হয়। এই থ্রেসহোল্ড বাড়ানো অবস্থায় ব্যথার চাপ বা তীব্রতা বেশি হলে ব্যথা অনুভুত হয়। আবার পেইন থ্রেসহোল্ড কমানো হলে অল্পতেই ব্যথা অনুভব হয়। মানুষের দেহের তাপমাত্রা, ভয়, উদ্বিগ্নতা, গা ঘেমে যাওয়া, অনুভূতি ইত্যাদি পেইন থ্রেসহোল্ডের পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকে।বিভিন্ন ব্যক্তির পেইন থ্রেসহোল্ড ভিন্নতার। আবার একই ব্যক্তির বিভিন্ন সময় পেইন থ্রেসহোল্ড ভিন্ন হয়।
ব্যথার ঔষধের ক্রিয়াপদ্ধতি পুরোপুরি ভালো না করা সম্ভাব হলেও অধিকাংশ তথ্য থেকে এটা প্রমানিত যে স্নায়ুবাহিত বেদনাপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ব্যথা উপশমের একটি অন্যতম প্রক্রিয়া। রোগীর ব্যথা উপলব্ধি এবং গুরোমস্তিষ্কে ব্যথার প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব বিস্তারের মধ্যে ব্যথা নাশক ঔষধের কার্যকারিতা নিহিত।
ব্যথার ঔষধ প্যা্রাসিটামল…
ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে ব্যথার ঔষধকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১.অ-মাদক ব্যথা নাশক, এই ঔষধ সকলের জন্য প্রযজ্য।যেমনঃ- প্যারাসিটামল, রেনিটিডিন ইত্যাদি।
২.নারকোটিক ব্যথানাশক ঔষধ এই ধরনের ঔষধ সকলের জন্য প্রযজ্য নয়। কেনন, এগুলো মাদক জাতীয়।সেবনে আসক্তি তৈরী করে। যেমনঃ- প্যাথিড্রিন, মরফিন ইত্যাদি। চিকিৎসকের পরার্মশ ছাড়া এই ধরনের ঔষধ সেবন করা উচিৎ নয়।
সোমাটিক (দৈহিক) ব্যথায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে অ-মাদক ব্যথানাশক ঔষধ , বিশেষ করে প্যারাসিটামলই বেশি ব্যবহার করা হয়। গলাব্যথা, মাথাব্যথা, পেশিব্যথা, ঋতুকষ্ট ইত্যাদিতে প্যারাসিটামল খুবই উপকারী।
জ্বরের জন্য প্যারাসিটামলের আর কি গুন গাইব, তা তো সবাই জানে যে ছোট থেকে বৃদ্ধ প্রযন্ত সকলের জন্য প্রথম জ্বরের ঔষধ হচ্ছে প্যারাসিটামল (নাপা, নাপা এক্সট্রা)।
আমাদের এই প্যারসিটামল, ব্রিটিশে ফার্মাকোপিয়া এবং আমেরিকায় এসিটোমাইনোফেন। প্রপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক ৫০০ মিলিগ্রাম একটি থেকে চারটি প্রযন্ত দেওয়া যেতে পারে। আর শিশুদের সিরাপ সর্বোচ্চ চার গ্রাম প্রযন্ত দেওয়া যেতে পারে।
প্যারাসিটামলের পার্শপ্রতিক্রিয়া তত গুরুতর নয়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে রক্তের প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাব সৃষ্টি করে এবং ত্বকে পাচড়া দেখা দেয়।
দৈনিক চারটির বেশি ট্যাবলেট (২০০০ মিলি গ্রাম) গ্রহন করলে কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। লিভারের রোগীরা এর ছেয়ে কম খাওয়া ভালো।
২০০৯ সালে আমেরিকার ফুড এন্ড ড্রাগস কর্তিপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন আমিরিকায় অতিরিক্ত এসিটোমাইনোফেন (প্যারাসিটামল) ব্যবহারে জন্য লিভার কার্যহীন হয়ে অনেক লোক মারাগেছে।
তিনি এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ কমিটির মিটিং করেছেন। এবং প্যারাসিটামলের সাথে কোডিন মিশ্রনের ব্যাপারএ সতর্ক করেছন। তিনি আরও বলেছেন প্যাসিটামলের সাথে কোডন মিশ্রিত থাকলে বক্সের গায়ে তা লিখেদিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশেও কোডিন মিশ্রিত প্যারাসিটামল বাজার জাত হায়েছে। তবে শুধু প্যারাসিটামলই বেশি নিরাপদ।
ব্যবহারের প্রতি সচেতন থাকা জরুরি…
জ্বর ও ব্যথা উপশমকারী প্যারাসিটামল একটি নিরাপদ ও কার্যকারি ও ঔষধ। কিন্তু প্যারাসিটামলের সাথে অন্য ঔষধের সংমিশ্রন থাকলে তা শরীরের ক্ষতি করতে পারে। প্যারাসিটামল একটি করে খেলে কাজ না হলে দুইটি করে খেলে রোগ ভালো হবে এ কথা মোটেও ঠিক নয়। ডোজ অনুযায়ী তিন দিন খাওয়ার পর কাজ না হলে চিকিৎসকের সাথে পরার্মশ করুন।
বিঃদ্রঃ ঔষধ মানুষের রোগমুক্তি করে, আবার ভূল ঔষধ রোগাক্রান্ত করে। অতএব, চিকিৎসকের পরার্মশ ছাড়া কোন ঔষধই সেবন করা উচিৎ নয়।

 

রেজাউল ফরিদ খান
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top