প্রথমেই কিডনির রোগ শনাক্ত করতে পারলে প্রতিরোধ করা সম্ভাব

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

10 months ago | Date : October 8, 2016 | Category : অনারোগ্য রোগ,কিডনী | Comment : Leave a reply |

kidneyআমাদের দেহের অতি মূলমান দুইটি অঙ্গ হচ্ছে কিডনি। মানুষের একটি কিডনি ড্যামেজ ব সমস্যা হলে স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারে। কিন্তু দুটু কিডনি একত্রে ড্যামেজ হলে তাকে আর বাচানো সম্ভাব হয় না অর্থৎ সে পৃথিবীতে মাত্র কয়েক দিনের অথিতি হিসাবে বেচে থাকতে পারে। যে কোন সময় দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করতে হবে তাকে।

কিডনির রোগটি এমন এক রোগ যা আক্রান্ত হওয়ার পর ৩-৬ মাসের মধ্যে কোন উপসর্গ দেখা দেয়না। কিডনি রোগের কারনে হোক বা অন্য কোন রোগের (ক্রনিক নেফ্রাইটিস কিডনির ফিল্টারকে আক্রমন করে ক্রমন্বয়ে কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে পেলতে পারে) কারনে হোক যদি কিডনির কার্যকারিতা তিন মাস বা তার অত্যাদিক সময় লোপ  পায় তাহলে তাকে দীর্ঘেস্থায়ী। কিডনি রোগ বলা হয়।

একই ভাবে উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিয়া কিডনির রোগ নয় তবুও কিডনির ফিল্টার (ছাকনি) ধ্বংশ করতে পারে।  জম্মগত ভাবে যদি কারো কিডনির কার্যকারিত কম হয়ে থাকে তাহলেও দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগ হতে পারে।

জম্মের ছয় মাস পরেই ফিল্টার মেমব্রেন পুরোপুরি তৈরী হয়ে যায়। অর্থৎ কিডনি কাজ শুরুকরে।

প্রপ্ত বয়স্ক একজন মানুষের কিডনিতে প্রায় ১০ লাখ থেকে ১২ লাখ ছাঁকনি রয়েছে যা প্রতিদিন (২৪ ঘন্টায়) ১৭০ লিটার রক্ত পরিশোধোন করে। এই রক্তের মধ্যে ১-৩ লিটার থাকে শরীরের বর্জ্র পদার্থ যা প্রসাবের সাথে দেহের বাহিরে চলে আসে। তাই কোন কারনে যদি এর কার্যকারিতা বাঁধা পায় তখন কিডনির দীর্ঘ স্থায়ী রোগ হতে পারে।

রক্তের ক্রিয়েটিনিন নামের জৈব পদার্থ পরিমাপ করার মাধ্যমে কিডনির কার্যকারিতা যাচাই করা যায়।

কিন্তু দূরভাগ্য জনক বিষয় হচ্ছে কিডনি ৫০ শতাংশ ড্যামেজ হওয়ার পর এই জৈব পদার্থ বাড়তে থাকে। এক জন পুরুষের রক্তে ক্রিয়েটিনিনের পরিমান ১.৪ মিলিগ্রাম এবং মহিলার রক্তে ১.৩ মিলিগ্রাম থাকলে তা স্বাভাবিক অবস্থা ধরা হয়। এর বেশি জৈব তিনমাস স্থায়ী থাকলে তাকে দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগ হিসাবে ধরা হয়। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের প্রধান সমস্যা হচ্ছে এর সহজে কোন উপসর্গ দেখা দেয়না। ফলে বছরের পর বছর রোগী এই রোগ পালতে থাকে। কিডনি জখন ৭৫ শতাংশ ড্যামেজ হয়ে যায় তখন এর উপসর্গ দেখা দেয়। যার কারনে অনেক মানুষকেই এর হাত থেকে ফিরেয়ে আনা সম্ভাব হয় না। ফলে তারা অল্প বয়সেই পৃথীবির মায়া ত্যাগ করতে হয়।

কিন্তু প্রথমিক পর্যায়ে যদি এই রোগ নির্নয় করা  যায় তাহলে চিকেৎসার মাধ্যমে এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

তাই সবার মাঝে এর কুফল ও প্রতিকারের বিষয়ে জানানো প্রয়োজন। এই জন্য দরকার গন সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

  • কয়েক মাস পর পর কিডনি পরিক্ষা করানো।
  • ডায়াবেটিস আছে কিনা তা জেনে নেওয়া।
  • প্রসাবে অ্যালবুমিন নির্গত হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখা।
  • রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রনে রাখা।

দীর্ঘ স্থায়ী কিডনি রোগ সাধারনত কিডনি ৭৫ শতাংশ ড্যামেজ হওয়ার পর এর উপসর্গ বা লক্ষন  দেখা দেয়। লক্ষন গুলো নিম্মরোপঃ-

  • ক্ষুধা মন্দা।
  • রক্ত স্বল্পতা।
  • বমি বমি ভাব।
  • শরিরে পানি জমা।
  • কোন প্রকার চর্মরোগ ছাড়াই শরীর চুলকানো।
  • দৈন্দিন কার্যকলাপ লোপ পাওয়া।
  • প্রসাবে তারতম্য ঘটা।

এই উপসর্গ গুলো যখন দেখা দেয় তখন রোগী ডাক্তারের কাছে যেতে যেতে কিডনি প্রায় ৮০% ড্যামেজ হয়ে যায়।

বিভিন্ন সমিখায় দেখা গেছে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগীদের  হৃদপিন্ডের রোগের আশঙ্কা ১০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। কোন কোন ক্ষেত্রে তা ৭০%  অতিক্রম করে। যুক্ত রাস্ট্রের এক গবেষনায় দেখা গেছে ৮০-৯০ শতাংশ লোক উচ্চ রক্তচাপে, ২৫ শতাংশ হার্ট  অ্যার্টাকে, ২০ শতাংশ হার্ট ফেইলিওর রোগে এবং ৬ শতাংশ ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার ঝুকি থাকে।

বর্তমানে প্রায় ১ কুটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। বাংলা দেশে ৩ হাজার লোকের উপর গবেষনা চালিয়ে দেখা গেছে প্রায় ১৮ শতাংশ লোক দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত। কোন এক পরিসংসখ্যানে দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার লোক কিডনি রোগে মারা যায়। এছাড়াও আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করলে কিডনি আক্রমনের ঝুকি আরও বেড়ে যায়

কিডনি রোগীর চিকিৎসা …

কিডনি সম্পূন ড্যামেজ হয়ে গেলে শুধু ঔষদের দ্বারা ভালো করা সম্ভাব নয়। এই জন্য প্রয়োজন নিয়মিয় ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে এক জন রোগী ৫-১৫ বছর স্বাভাবিক জীবন যাপন পারে এবং সফল কিডনি সংযোজনের মাধ্যমে ১০-১৫ বছর স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে। তবে সর্বোচ্চ ৩০ বছর বেছে থাকার রেকর্ড আছে।

কিডনি রোগ শনাক্ত করে রোগী সহ সকল জন সাধারনের কাছে এর সচেতনতা গরে তুলতে হবে।পোস্টার ব্যানার এবং মিডিয়ার মাধ্যমে এর এর প্রচার করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সু নাগরিক গনও এই প্রচেষ্ট চালাতে হবে। ফলে আক্রান্তের প্রথমিক অবস্থায় রোগ নির্নয় করা যায় তখন সাথে সাথে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে রোগী এই রোগীর হাত থেকে মুক্তি পাবে।

 

অধ্যাপক হারুন অর রশিদ

কিডনি রোগ সভাপতি কিডনি ফাউন্ডেশন

ও বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top