সাপে দংশন নিয়ে প্রথম জাতীয় জরিপ

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

11 months ago | Date : October 26, 2016 | Category : হেলথ টিপস | Comment : Leave a reply |

samke bitingsnake bittingসাপ আমাদের অতি পরিচিত একট সরিসীপ প্রানী। বিভিন্ন প্রজাতির সাপ আছে। কোনটার বেশি বিষধর আবার কোনটা সামান্য। সাপ মানেই হিংস্র, বিষাক্ত। সাপের কামরের। সাপের কামর ও সাপ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘ দিন গবেষনা চলে। এক প্রযায়ে এই বিষয়ে গবেষকেরা বিভিন্ন তথ্য বের করেন। গবেষকের বলেন সাপ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে এটাই হল প্রথম জরিপ।
গবেষনায় পাওয়া তথ্য থেকে দেখা যায় বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগে মানুষ সাপের কামরে আক্রান্ত হন বেশি (বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলেরা বসবাস কারী লোকজন) ।
বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলের প্রতি এক লাখের মধ্যে প্রায় ৬২৩ জন সাপের কামরে আক্রান্ত হয়। এই হারে গ্রামের মোট জনসংখার মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৯১৯ জন সাপের কামরে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে মারা যায় প্রায় ৬ হাজার ৪১ জন। তাহলে এই তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বর সংখ্যা প্রয় দারায় দের লাখেরও বেশি। গবেষনায় জানা যায় বংলাদেশে প্রয় ৮০ হাজার প্রজাতির সাপ আছে। এর মধ্যে মারাত্নক বিষধর হচ্ছে ২২ প্রজাতির। গবেষকের এটাকে প্রাচীন ও অবহেলিত জন সংখ্যার স্বাস্থ্য হিসাবে বিবেচনা করেন। তারা আরোও বলেন সাপের কামড় সম্পর্কে জতীয় পযায়ে ধারনা পাওয়ার জন্য তারা এই গবেষনায় যোগ দেয়েছন।
সরকা্রী তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর ৮-১০ হাজার লোক সাপের আক্রমনের শিকার হয়। এদের মধ্যে জীনন হারায় প্রয় দুই হাজার। এর পূর্বের তথ্যে বলা হয়েছিল প্রতি লাখে ৪.৩% লোক সাপের আঘাতে মারা যায়। জাতীয় পর্যায়ের এই গবেষনায় যুক্ত রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব ব্যাংক এবং অস্ট্রেলিয়ার নিউ ক্যাসেল ইউনিভার্সিটি। এই গবেষনা সম্পন্ন করেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিম বিভাগের অধ্যাপক রিদওয়ানউর রহমান এবং ক্যাসেল ইউনুভার্সিটির শিক্ষক আনুল হাসানাত;তাদের সাথে আরো আছে অধ্যাপক এলিসন জনস, অধ্যাপিক ক্যাথারিন ডেস্টি এবং স্বাস্থ্য অধিপরের সাবেক মহা পরিচালক এম এ ফয়েজ প্রমুখ। গবেষনায় দেখা গেছে হাটার সময়(২৭%) এবং পানিতে অবস্থান রত অবস্থায় (২৭%) সব ছেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। আবুল হাসানাত বলেন বিশেষ করে রাতের বেলায় হাটার সময় বেশি আক্রান্ত হয়।
সাপে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে সবছেয়ে বেশি বরেশাল এবং সবছেয়ে কম সিলেট। বরিশালে প্রতি ১ লাখের মধ্যে ২ হাজার ৬৬৭জন দংশিত হয়। খুলনায় ৯০৬ জন এবং চট্টগ্রামে ৩৯৭ জন। ঢাকাতে ৪৪০ জন এবং রাজশাহীতে ৪৭২ জন। তাহলে দেখাযায় সিলেট ও চট্ট গ্রামে সাপের আক্রমনে মানুষ মৃত্যু বরন করে কম। গবেষকদের ধারনা পাহাড়ি অঞ্চলে প্রশিক্ষন প্রপ্ত ওঝা বেশি। এছাড়াও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাপ সংক্রান্ত বিষয়ে চিকিৎসা করা হয়।
সাপেকাটা রোগীর ৭৫% যায় ওঝার কাছে। আবার দেখাযায় কোন কোন স্থানে ওঝা না পাওয়া গেলে হাসপাতালে আনার অর্ধেক পথেই রোগী মারা যায়।
তাই প্রত্যেক হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষন প্রপ্ত ওঝ বাড়ালে সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর পরিমান কমানো যাবে। গবেষনায় বলেন সাপে কামড় দিলেই মনে করে এটা বিষধর সাপ। আমাদের দেশে বিষধর সাপের পরিমান খুবই কম। আর বেশির ভাগই স্বাভাবিক যা কামড়ের পর ৯০% লোকই বেচে যায়।
প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে সাপে কাটে কিন্তু তার মধ্য মারা যায় দেড় লাখ মানুষ। এদের মধ্যে বেশির ভাগই দরিদ্র ও গ্রামের লোক।
বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়ার আরও কিছু দেশে (ভারত ও নেপাল) সাপের ভায়াভহতা দেখা যায়। নেপালে প্রতি লাখে আক্রান্ত হয় ১ হাজার ১৩০ জন। অধ্যাপক এম এ ফয়েজ মনেকরেন সাপে কাটা হচ্ছে সবছেয়ে বড় অবেহেলিত স্বাস্থ্য সমস্যা। কারন এটা গ্রামের দরিদ্র মানুষের সমস্যা ফলে এর কোন উন্নত ঔষধ বা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।
আবুল হাসানাত বলেন বিষক্রিয়া সংক্রান্ত সবছেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে সাপের কামড়ে।
এই জরিপ টি করা হয়েছে ছয়টি বিভাগের গ্রামের ৩ হাজার ৯৯৩ টি পরিবারের ১৮ হাজার ৮৫৭ জনের উপর।
বিঃদ্রঃ অতএব, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি হাসপাতালে সাপ সংক্রান্ত সকল বিষয়ে ঔষধ এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ রইল।

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top