মায়ের দুধই শিশুর শ্রেষ্ঠ খাবার

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

10 months ago | Date : October 25, 2016 | Category : হেলথ টিপস | Comment : Leave a reply |

Baby Breast Feeding

গবেষকদের মতে নবজাতক শিশুদের জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই।মায়ের দুধই নবজাতকের জন্য আদর্শ ও পুষ্টিকর খাবার।এর ভিতর নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান (ক্ষয় পূরন, বৃদ্ধি সাধন এবং রোগ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় সকল উপাদান) বিদ্ধমান।

মায়ের স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুকি কমে এবং পুনগর্ভধারণের দূরত্ব বেড়ে যায়। এই সব সুফল পাওয়ার জন্য প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। অর্থৎ প্রথম ছয় মাস শিশুকে মায়ের দুধের বাহিরে বিন্দু মাত্র পানিও পান করানো যাবেনা।

কিছুক্ষন পর পর শিশুকে দুধ পান করাতে হবে। এতে মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ থাকবে।

প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু মাত্র মায়ের দুধ খাওয়াবেন কেন ???

নবজাতকের জন্য প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ খাওয়ানোর কারন সকল মাতাই জানা অত্যান্ত জরুরি। কেননা প্রত্যেক মাতাই মাথায় রাখতে হবে ছয় মাস বয়সী শিশুর জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই। কারন মায়ের দুধ এবং গরুর দুধের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। যেমনঃ-মায়ের দুধে শর্করার পরিমান ৭.৪ গ্রাম আর গরুর দুধে ৪.৬ গ্রাম প্রায় অর্ধেক। গরুর দুধে প্রচুর পরিমান আমিষ থাকে যা শিশুর জন্য মাত্রাতিক আর মায়ের দুধে পরিমান মতো। শিশুর মস্তিষ্কের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় টরিন থাকে মায়ের দুধে। শরীরের তরলের আণবিক চাপ বজায় রাখার জন্যও গরুর দুধের ছেয়ে মায়ের দুধ উপযোগী। তাছাড়া প্রয়োজনীয় সকল ভিটামিন গরুর দুধের ছেয়ে মায়ের দুধে বেশি (শিশুর পরিমান মতো)।

অতএব সকল দিক বিবেচনা করে বলা যায় যে নবজাতকের জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নিই।

মায়ের দুধের উপকারিতা…

সংক্রমণ প্রতিরোধঃইমিউনো গ্লোবিউলিন এবং অন্যান্য সংক্রমণ প্রতিরোধী পদার্থ মায়ের দুধে বেশি থাকে এবং এর সাথে থাকে ল্যাকটোব্যাসিলাস,যা বাইফি ডাস নামের এক ধরনের জীবানু জম্মায়।এরা ক্ষতিকর জীবানুকে মেরে পেলে।

অ্যালার্জি থেকে মুক্তি…

মায়ের দুধে আমিষের পরিমান বেশি বলে শিশু অ্যালার্জির সংক্রমন থেকে মুক্তি পায়।

মায়ের দুধ খাইয়ে পালিত শিশুদের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য নিম্মরুপঃ-

  • শারীরিক ও মানষিক বিকাশ।
  • শিশুর উচ্চ বুদ্ধিমত্তা।
  • ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার কম হওয়া।
  • আকস্মিক মৃত্যু কম হওয়া।
  • টিকার দ্রুত কার্যকরিতা।

মায়ের উপকার…

জম্মের সাথে সাথে বাশিশুকে শাল দুধ খাওয়ালে পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত অক্সিটসিন জরায়ুকে সংকুচিত করে ফলে রক্তক্ষরন বন্ধ  হয়ে যায়।

শিশুকে বেশি বেশি দুধ খাওয়ালে পুনরায় মাসিক হতে অনেক সময় লাগে।ফলে গর্ভধারনও দেরিতে হয়। এতে শিশুর প্রতি পরিবারের আদর-যত্ন, স্নেহ-ভালবাসা বেশি থাকে। অর্থৎ পরিবার শিশুর চাহিদা পূরনে সক্ষ্যম হয়।

অর্থনৈতিক ভাবে উপকারিতা…

মায়ের দুধের বিকল্প অর্থাৎ কৃতিম দুধ খাওয়ালে মাসে অনেক টাকা খরছ হয়। এর চেয়ে বড় কথা হল কৃতিম দুধ পান করার ফলে শিশুকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত করে। এতে করে অনেক টাকা ব্যয় হয়।

কিভাবে শিশুকে দুধ খাওয়াবেন…

শিশুকে দুধ খাওয়ানোর উত্তম পন্থা হচ্ছে মাকে দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে বসে দুধ দেওয়া।এতে শিশুর দেহ থাকবে মায়ের হাতের উপর।শিশুকে এমন ভাবে দুধ খাওয়াতে হবে যাতে নাড়া চাড়া না হয় এবং ঘাড় যাতে সোজা থাকে।

আপনার শিশু কি দুধ পাচ্ছে ???

নিম্মের বিষয় গুলো লক্ষ্য করলে সহজেই বুঝতে পারবেন।

  • ২৪ ঘন্টায় অন্তত ৮ বার শিশুকে দুধ খাওয়াতে হবে।
  • দুধ খাওয়ানোর সময় পেশি থাকবে দৃঢ় এবং ত্বক থাকবে স্বাভাবিক।
  • শিশু দৈনিক ৬-৮ বার প্রসাব করবে।
  • মায়ের স্তন খালি হয়েছে এরকম অনুভব হবে।
  • শিশুর ওজন বাড়তে থাকবে।

উল্লেখিত বিষয় গুলোর সাথে যদি আপনি মিলকরতে পারেন তাহলে বুঝতে হবে আপনার শিশু দুধ পাচ্ছে।

সাধারন কিছু সমস্যা…

  • স্তনে দুধ জমে যাওয়াঃহাত অথবা পাম্প দিয়ে দুধ ঘন ঘন দুধ বের করা। এবং ঐসময় তুলনামূলক ভাবে পানি কম পান করা।
  • স্তনের বোটা পেটে গেলে নিঃসৃত দুধ অথবা ভ্যাসলনিন ব্যবহার করা।
  • স্তনের বোটা ভিতরে ছলে গেলে হাত দেয়ে বের করে শিশুর মুখে দাও।

শিশু মায়ের দুধ না পাওয়ার কারনঃগর্ভফলের অংশ ভেতরে থেকেগেলে তাদুধ নিঃসরক প্রোল্যাক্টি হরমোনকে বাধাগ্রস্থ হতে পারে। মায়ের   যথেষ্ট বিশ্রাম নিতে হবে।দুধ কমে চিকিৎসকের সাথে যোগযোগ করতে হবে।চিকিৎকের দেওয়া বিধি বিধান মেনে বলতে হবে।বেশি করে কাল জির এবং ডমপেরিডন জাতীয় ঔষধ খাওয়া।গবেষকদের মতে শুধু মায়ের দুধ  খাওয়ানের ফলে প্রতি বছর ৩৭ হাজার নবজাতকের  জীবন রক্ষা পায়।কোন এক জরিপে দেখা গেছে মাত্র ৪৩% শিশু জম্মের পর পরই শাল দুধ খাওয়ার সুযোগ পায়।আর জম্মের পার ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার নবজাতক মারা যায় এবং  ২৮ দিনের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শিশু মারা যায়।

অতএব, উল্লেখিত তথ্য গুলো দেখলেই বুঝাজায় জম্মের পর শাল দুধ শিশুর জন্য কতটা উপযোগী।

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ

  • সকল মাকে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ার সুফল যানাতে হবে।
  • জম্মের সাথে সাথে নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়াতে মাকে সাহায্য করতে হবে।
  • শিশুকে কিভাবে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে তা মাকে শিখেনিতে হবে।
  • শিশুর চাহিদা মত দুধ খাওয়া তে হবে।
  • প্রথম ছয় মাস বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু খাওয়ানো যাবেনা।
  • যে কোন সমস্যায় চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
  • ছয় মাস পর শিশুকে বুকের দুধের পাশা পাশি অন্য খাবার যেমন খিচুড়ি দিন।
  • বোতলের খাবার একদম দিবেন না । কারন শিশুর ডায়রিয়া সহ অপুষ্টি জনিত রোগ হতে পারে।

গর্ভবর্তী মাকে পূর্বের তুলনায় বেশি খাদ্য খেতে হবে।গর্ভবর্তী মায়ের খাদ্য অবশ্যই সুষম খাদ্য হতে হবে।মা যত ভালো খাবে শিশু তত ভালো দুধ পাবে।এতে শিশুর তারাতারি শারীরিক, মানষিক ও বুদ্ধি বিকাশ ঘটবে। প্রয়োজনে পরিবারের অন্যরা মা ও শিশুর স্বাস্থ রক্ষায় সহযোগীতা করতে পারেন।

শিশুর খাদ্যের বিধান ও অধ্যাদেশ…

শিশুখাদ্য বাজারজাতকরন নিয়ন্ত্রনের জন্য বাংলাদেশের আইন অনু্যায়ী পাত্রের গায়ে বাংলায় বড় অক্ষরে লিখা থাকতে হবে মায়ের দুধের বিকল্প নেই অথবা শিশুর জন্য মায়ের দুধই সর্বোৎকৃষ্ট। শিশু খাদ্যের কোন বিজ্ঞাপনে বোতলের অথব শিশুর কোন ছবি ব্যবহার করা যাবে না।এই ব্যাপারে সরকারকেও উদ্ধেগ নিতে হবে। মাতৃত্ব ছুটি আরও বাড়াতে হবে।

বিঃদ্রঃজম্মের সাথে সাথেই নবজককে বুকের শাল দুধ খাওয়াতে হবে;ছয় মাসের মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

 

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top