ডায়াবেটিসের জটিলতাকে চিনে রাখুন

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

11 months ago | Date : September 24, 2016 | Category : ক্রনিক রোগ,ডায়াবেটিস | Comment : Leave a reply |

ডায়াবেটিস একটি নীরন ঘাতক। নীরব বলার কারন হল প্রথমিক পর্যায়ে এর তেমন বেশ উপসর্গ নেই।একে বারে যে নেই তা বলা যাবেনা।কারন তখনও রক্তের উচ্চমাত্রায় শর্করা ক্ষতি করতে থাকে অতি নীরবে।এক সময় তা মারাত্মক আকার ধারন করে আর জীবনকে করে দেয় বিপন্ন।তাই এই রোগকে বলা হয় নীরন ঘাতক ডায়াবেটিস।ডায়াবেটিস রোগীদের অন্যদের তুলনায় দ্বিগুনেরও বেশি হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি ৫ গুন। স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতের ঝুঁকি ৬ গুন।অন্ধ হওয়ার আশঙ্কা ২৫ গুন এবং গ্যাংগ্রিন হয়ে পা হারানোর আশঙ্কা ২০ গুন বেশি।একজন ডায়াবেটিস রোগীকে এইসব ঝুকি,আশঙ্কা ও সম্ভাবনা নিয়ে থাকতে হয় সারা জীবন।তবে এইসব ঝুঁকি থেকে বাচতে পারেন যদি এই রোগ সর্ম্পকে তার পূর্ণ ধারনা থাকে।আমারা ১৪-ই ডিসেম্বরকে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে পালন করি।এর স্লোগান হচ্ছেঃ ডায়াবেটিসের জটিলতাকে চিনুন, ভবিষ্যৎ প্রজম্মকে রক্ষা করুন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আছে কি ???
1

ডায়াবেটিসের জটলতা থেকে রেহাই পাওয়ার প্রধান উপায় হচ্ছে রক্তে শর্করা যথাযথ নিয়ন্ত্রণ রাখা।কিছু মানুষ মনে করেন ডায়াবেটিসের উপসর্গ(ঘন ঘন প্রসাব,অতিরিক্ত পিপাসা,ওজন কমে যাওয়া) দেখা না দিলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রনে আছে।রক্তে শর্করার পরিমান নিয়ন্ত্রনে থাকা মানে হলঃখালি পেটে রক্তে শর্করার পরিমান ৬ মিলিমোল।খাওয়ার ২ ঘন্টা পর ৮ মিলিমোল বা তার কম।তিন মাসে গড় পরিমান এইচবিএওয়ান সি ৭ শতাংশের কম থাকা।এর ব্যতিক্রম মানেই নানান সমস্যা(আপনি রোগী)।রক্তে শর্করা ঠিক আছে কিনা?কোন রকমের জটিলতা দেখা দিচ্ছে কিনা?এই দুই বিষয়ে সচেতন থাকতে হলে রোগী নিজেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষন করতে হবে।সপ্তাহে এক বা দুই বার নিজ বাড়িতে থেকে গ্লুকোমিটার যন্ত্রের মাধ্যমে রক্তের শর্করা পরিক্ষা করা।তিন মাস পর শর্করার গড় পরিমান চিকিৎসক কে জানানো।এছাড়াও বছরে ১-২ বার প্রসাবে আমিষ ও মাইক্রোঅ্যালবুমিনের পরিমান,রক্তে চর্বির পরিমান,কিডনির কার্যকরিতা,চোখের রেটিন ও দু পায়ের পরিক্ষা করানো জরুরি।উল্ল্যেখিত অঙ্গ গুলো কোন রকমের সমস্যা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরার্মশ্য নেওয়া অতন্ত জরুরি।নিয়মিত এভাবে সচেতন থাকলে যে কোন জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

সত্যিই কি এইসব জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভাব ???

বর্তমান বিজ্ঞানীরা বলেছেন সচেতনতায় ৭০-শতাংশ ডায়বেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব (যতনে রতন মিলে)।অথচ এখন মহামারীর মত বেড়ে চলছে এই রোগ।বিজ্ঞানীরা ধারনা করেন এখনি প্রতিরোধ করা না গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এই রোগীর সংখ্যা ৫৫ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।আর এই মহামারি বেশি আক্রমন করবে উন্নয়নশীল দক্ষিণ ও দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলোতে।তাই এই নিরব ঘাতক মহামারি থেকে ভবিষ্যৎ প্রজম্মকে রক্ষা করতে প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পুস্টি কর খাবার এবং নিয়মিত কায়িক শ্রমের মাধ্যমে সু-গঠন ও স্বাস্থ্যকর করে তোলা।অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস,কায়িক শ্রমের অভাব,ওজন বেড়ে যাওয়া,দূষিত পরিবেশ,অতিরিক্ত জামেলা,অপুষ্টি সহ নানা কারন ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী।সবকিছুর পরও এইসব রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপন।

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top