কিডনি রোগীর পথ্য ও পুষ্টি

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

11 months ago | Date : October 9, 2016 | Category : কিডনী,ক্রনিক রোগ | Comment : Leave a reply |

kidneyকিডনি আমাদের দেহের অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ। আমাদের দেহের দুটি কিডনি এক সাথে ড্যামেজ হলে মানুষ মারা যায়। এই ভয়ানক মানব ঘাতী কিডনি রোগ আমাদের দেশে দিনদিন বেড়েই চলছে। এর মধ্যে শিশু ও ক্রনিক কিডনি রোগী বেশি।

নিছে এর কয়েকটি কারন দেওয়া হলঃ-

  • বাহিরের ও খোলা খাবারের প্রতি আগ্রাহ খাদ্য গ্রহন বৃদ্ধি।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে খোলা খাবার বিক্রি।
  • প্রসাবে এলবুমিন নির্গত হওয়া।
  • শরীরে অতিরিক্ত ওজন।
  • ডায়াবেটিস ও উচ্চ রাক্তচাপ।
  • জেনেটিক ও বংশগত কারন।
  • খাদ্যে ভেয়াজাল অতিরিক্ত অলকোহল ও ফরমালিন যুক্ত।

এছাড়াও যে কারন টি আছে তা হচ্ছে নিজের প্রতি অসেতনত।

একটু সচেতন ভাবে চলাফেরা করলে ৫০% রোগীর ঝুকি থাকে না।কেননা নিরাময়ের ছেয়ে প্রতিকার ভালো। চলার পথে কিছু নিয়ম রীতি মেনে চললে শরীরকে সুস্থ ও নিরোগ রাখা যায়। উপকার হবে শারীরিক মানষিল ও আর্থিক ভাবে।

শরীরকে সুস্থ এবং জীবনকে সুন্দর করার জন্য কিছু নিয়মঃ-

  • ধুলা বালি থেকে দূরে থাকা, পরিস্কার পরিচন্ন থাকা এবং নিয়মিত গোসল করা।
  • বাহির থেকে এলে অথবা টয়লেট থেকে বের হলে সাবান দিয়ে হাত মুখ ধোয়া,
  • প্রতিদিন সুষম খাদ্য খাওয়া, পচা বাসি খাবার থেকে বিরত থাকা।
  • নেশা জাতীয় সকল দ্রব্য থেকে দূরে থাকা।
  • প্রতিদিন কায়িক পরিশ্রম করা, সকাল বিকাল হাটা বা ব্যয়াম করা।
  • অতিরিক্ত শর্করা এবং চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়া।
  • প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দেহের ৬টি প্রয়োজনীয় উপাদান রাখার চেষ্টা করা।
  • বিশেষ কিছু রোগের জন্য খাদ্য তালিকা করে খাওয়া। যেমনঃ কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ রোগ।
  • অতিরিক্ত ঔষধ সেবন করা উচিৎ নয়। কেননা ঔষধ মানুষকে বাচায় আবার এর ভুল গ্রহন বা পার্শ প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকরে।
  • প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। পানি হজম ক্রিয়া সহ শরীরের বিভিন্ন উপদকার করে।
  • ডায়াবেটিসের রোগীরা কাচা লবন থেকে বিরত থাকুন।
  • শক্তিবর্ধক ভিটামিন পাইল বা টেবলেট খাওয়া ত্যাগ করুন। কেননা, এটি ধীরে ধীরে আপনার কিডনি ড্যামেজ করে দেয়।

কিডনি রোগ একটি যন্ত্রনা দ্বায়ক মরন বেদী। বাংলা দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার লোক কিডনি আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আক্রন্তদের মধ্যে ৯০ ভাগ লোক দরিদ্র তাদের পক্ষে এই ব্যায়বহুল চিকিৎসা সম্ভাব নয়। ফলে রোগে ভোগে এক পর্যায়ে মারা যায়। আমাদের দেশের প্রায় ৫১শতাংশ লোক তাদের ডায়াবেটিস সর্ম্পকে অসচেতন এবং ৩৬ শতাংশ লোক যানের উচ্চ রক্তচাপ সর্ম্পকে। এই দুই রোগ একত্রে আক্রমন করে আমাদের কিডনিকে ড্যামেজ করে।

কিডনি রোগীদের খাওয়া দাওয়া…

আমরা একটু সচেতন ভাবে চলাফেরা করালেই আমাদের কঠিন রোগ গুলোর হাত থেকে মুক্তি পেতে পারি। একজন কিডনি রোগী যা খাবেন এবং যা খাবেন না তা নিম্ম রোপঃ-

কিডনি রোগ শনাক্ত হওয়ার পর প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন ০.৫-০.৮ গ্রাম।

গুরোত্বর আক্রান্ত ব্যাক্তির জন্য প্রয়োজন ০.৫ গ্রাম। মনে রাখতে হবে কিডনির রোগীকে উচ্চ জৈব মূল্যর প্রানিজ প্রোটিন দিতে হবে। যেমন মাছ, মাংশ, দিই, ডিম, ইত্যাদি। হিসাব রাখতে হবে ৩০ গ্রাম মাছ/মাংশ প্রোটিন আছে ৭ গ্রাম। খেয়াল রাখতে হবে কিডনি রোগীর খাদ্য তালিকায় যেন সীমিত প্রোটিন এবং যথেষ্ঠ ক্যালরি থাকে। কিডনি রোগী মাছ, মাংশ, ডিম, দুধ সীমিত পরিমানে খাবে। কেনন, এগুলো প্রানিজ প্রোটিন।

যেসব সবজি খাবেনা…

কডনি রোগীরা ফুলকপি বাঁধা কপি, কাঠালের বীচি, শীমের বীচি, মূলা, কচু, পালংশাক, পুই শাক, গাজর, ঢেড়শ, মূলা শাক ইত্যাদি খাবেন না।

যেসব সবজি খাবে…

পটল, করলা, পেপে, লাউ, চিচিঙ্গা, সাজনা, ডাটাশাক, লালশাক, কচুশাক, হেলেঞ্চার শাক,বীচি ছাড়া শশা, জিংগা ইত্যাদি খাওয়া যাবে।

যেসব ফল খাওয়া যাবে…

কম পটশিয়াম যুক্ত খাবার খেতে হবে যেমনঃ- আপেল, পাকা পেপে, নাস পাতি, পেয়ারা ইত্যাদি।

ডাব তো একেবারেই খাওয়া যাবে না। কারন ডাবে পটাশিয়ামের পরিমান বেশি। আর কিডনি রোগীদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়তে থাকে।

রক্তে ক্রিয়েটিনিনের সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে, রক্তে ক্রিয়েটিনের স্বাভাবিক মাত্রা হল ৫৩-১২৩ লিটার/মাইক্রোমোল। এর বেশি হলে শতর্ক থাকা জরুরি।

উপরের তথ্য গুলো কিডনি রোগ ভালো করবে না। আপনার রোগটি নিয়ন্ত্রনে রাখবে।আপনি যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাবেন। আর যাদের কিডনি রোগ হয়নি বা ৫০ শতাংশের নিছে তাদের কোন ভয় নেই অর্থৎ তাদের আর এই রোগ আক্রান্ত করতে পারবে না।

 

এস এন সম্পা

পুষ্টিবিদ,সমরিতা হাসপাতাল পান্থপথ ঢাকা।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক।

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top