হেপাটাইটিস থেকে বাচুন

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

9 months ago | Date : November 12, 2016 | Category : হেলথ টিপস | Comment : Leave a reply |

মানবদেহের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন একট অঙ্গ হচ্ছে যকৃত বা লিভার।

মানুশের শারীরবৃত্তীয় প্রকৃয়ার অতঃপ্রত ভাবে জড়িত। আমরা যা খাই তা হজম হওয়ার পর রক্তে প্রবেশের জন্য লিভারের মধ্য দিয়ে জেতে হয়। আমাদের খাবারের যে অংশ ভালো তা রেখে মন্দটাকে অপশারন করার কাজ হচ্ছে লিভারের। তাছাড়াও রক্তের বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন সংশ্লেষন করে। উক্ত প্রোটিনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পদার্থ পরিবহন, রক্তের তারল্য বজার রাখা, রক্তে জমাট বাঁধা লিবারের দায়িত্ব।ভিটামিন এ,বি-১২ ও ই এর মত গুরুত্ব পূর্ণ ভিটামিন সঞ্চয়ের কাজ করে লিভার। ফলে লিভারের রোগ হলে পুরু শরীরই রোগে আক্রান্ত হয়।

কিছু কিছু ভাইরাস স্বল্পমেয়াদি এবং কিছু কিছু ভাইরাস দীর্ঘ মেয়াদী প্রদাহ তৈরী করে। এই ভাইরাস গুলোকে বলে হেপাটাইটিস ভাইরাস এবং এই ভাইরাসের আক্রমনে সৃস্ট রোগকে হেপাটাইটিস বলে। মানুষের লিভার সাধারনত ৫ টি ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হয়। ভাইরাস গুলোর নাম ইংরেজী বর্ণ মালার প্রথম ৫ টি অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে । ভাইরাস গুলো যথাক্রোমে এ,বি,সি,ডি এবং ই। এদের মধ্যে এ ও ই স্বল্পমেয়াদী প্রদাহ করে এবং বি,সি ও ডি দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ করে।

হেপাটাইটিস থেকে বাচুন…

হেপাটাইটিস একটি মানব ঘাতী রোগ। প্রতিবছর পৃথিবীর প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। প্রতিবছর হেপাটাইটিস বি দ্বারা স্বল্পমেয়াদী প্রদাহে আক্রান্ত হয় ৪০ লক্ষ মানুষ এবং ৩৫ কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহে আক্রান্ত থাকে। এই তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের প্রতি ১২ জনে এক জন হেপাটাইটিস বি অথবা সি দ্বারা আক্রান্ত হয়। এবং সি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগীদের সংখা ১৭ কোটি। বিশ্ব স্বস্থ সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী মানুষের মৃত্যুর হাপাটাইটিস বি এর অবস্থান দশম।

এই রোগের ভয়াবহতা বিবেচনা করে (WHO) 2010 সাল থেকে প্রতি বছর ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস হিসেবে পালন করার ঘোশনা দেয়েছে। জনসচেতনা তৈরীর লক্ষে ২৮ জুলাই হেপাটাইটিস দিবস টি আমাদের দেশের হেপাটলজি সোসাইটি সহ কয়েকটি সংগঠন  পালন করে আসছে।

হেপাটাইটিস রোগের প্রতিক্রিয়া…

সংক্রমনের উপর ভিত্তি করে হাপাটাইটিস ভাইরাস কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়

১.পানি ও খাদ্য বাহিত ভাইরাস –হেপাটাইটিস এ ও ই। এই ভাইরাস দুষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। রাস্তার খোলা খাবার (শরবত, আখের রস, রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন তৈলাক্ত খাবার ইত্যাদি)। যারা শহরে বাস করে কিন্তু পানি ফুটিয়ে পান করেনা অথবা গ্রামে ডোবা বা নালার পানি পান করে তারা তারা হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এই ভাইরাস দেহে প্রবেশ করে লিভারের কোষে আক্রমন করে। কোষ নষ্ট হলে বিলিরুবিন রক্তে প্রবেশ করে ফলে রক্তের বিলিরুবিন এর মাত্রা বেড়ে যায় এবং জন্ডিস দেখা দেয়।এই ভাইরাস ডিএনএ ও বিভিন্ন এনজাইম ব্যাবহার করে বংশবিস্তার করে। ফলে দেহে প্রবেশের ১৫-৬০ দিন পর জন্ডিস দেখা দেয়। এছাড়াও ভমি ভমি ভাব, জ্বর , ডন পেটের পাজরের নিছে ব্যাথা, ক্ষুধা মন্দা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এই ভাইরাস সাধারনত শিশুদেরকে আক্রমন করে বেশি।

বন্যার সময় এর ভয়াবহতা বেশি প্রকাশ পায়।

এই ভাইরাস গুলো সাধারনত তেমন ক্ষতিকর নয়। আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা বাহীনি এদের জন্য যথেষ্ট। ২ – ৬ সপ্তাহের মধে আক্রান্ত ব্যাক্তির জন্ডিস আপনা আপনি সেরে যায়। তবে গর্ববর্তী মহিলাদের জন্য মাঝে মাঝে ভয়ংকর আকার ধারন করে।যখন তা হেপাটিক ফেইলার হয়ে যায়। যদি জন্ডিসে আক্রান্ত ব্যাক্তি অস্বাভাবিকা আচরন ও অজ্ঞান হয়ে যায়।তখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সরনা পন্ন হতে হবে।

হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস মূলত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়াও সিরিঞ্জের মাধ্যমে, লালার মাধ্যমে, মা থেকে বাচ্ছাদের কোমল ত্বকের মাধ্যমে এবং যৌন মিলনের মাধ্যমে ইত্যাদি।

ভাইরাস বি ও সি দেহে প্রবেশের এক থেকে ছয় মাস প্রযন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এর পর এর আক্রমনের লক্ষন দেখাদিতে পারে। এই ভাইরাসদ্বয় দ্বারা জন্ডিস হয়না। ক্ষুধামন্দা, বুকের নিছে ডন পেটে জ্বালা পোড়া শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।

এই ভাইরাসদ্বয় দীর্ঘদিন যাবত নিরব ঘাতকের মতো কাজ করে। এই  সময় রোগের কোন লক্ষন দেখা যায় না। এই অবস্থায় এটি সংক্রমিত হতে পারে। অর্থাৎ অন্যের দেহে ছড়াতে পারে।

হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসদ্বয়ের সাথে দেহের প্রতিরক্ষা বাহিনী হেরে যায়। এদের আক্রমন আরও তিব্র হয়।যা কারনে হেপাটাক ফেইলর বা লিভার ক্যান্সার হতে পারে। হেপাটাইটিস বি,সি ভাইরাস দীর্ঘদিন যাবত সুপ্ত অবস্থায় থাকে বলে প্রথমিক পর্যায়ে এর কোন উপসর্গ দেখাদেয় না। যখন লিভার সিরোসিস হওয়ার পর এর উপসর্গ দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যাক্তি কোন কারনে রক্ত পরিক্ষার মাধ্যমে হেপাটাইটিস ভাইরাস ধরা পরে। এই অবস্থায় সঠিক চিকিৎসার করালে এর ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভাব।

বাংলাদেশের স্বাস্থ রক্ষায় হেপাটাইটিসের প্রভাব…

হেপাটাইটিস ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া কতটা জরুরি তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এছাড়া লিভারদেহের একটি প্রয়োজনিয় অঙ্গ এর ক্ষতির ফলে দেহের ভিবিন্ন  সমস্যা দেখা দেয়।

তাহলে সকল আলোচলা থেকে প্রতিয়মান হল দীর্ঘমেয়াদী লিভার প্রদাহ ও লিভারের জন্য দায়ী প্রধান ভাইরাস দুটি হচ্ছে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস। শিশু থেকে বৃদ্ধা প্রযন্ত সকল মানুষ এই ভাইরাসে ঝুকির মধ্যে আছে। এই ভাইরাসদ্বয় বিভিন্ন ভাবে সংক্রমিত হয়। যেমনঃ- একই সিরিঞ্জ বার বার ব্যবহারে, অপারেশনের পর যন্ত্র পাতি ভালো ভাবে পরিস্কার না করলে। সেলুনে একই ব্লেড বিভিন্ন জনে ব্যবহার করলে। অনিরাপদ যৌনমিলনের মাধ্যমে (স্বামি থেকে স্ত্রী, স্ত্রী থেকে স্বামি) এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির শুধু নিজের ক্ষতি হয় তা ন। বরং এর প্রভাব উক্ত ব্যক্তির পরিবার, সমাজ ও রাস্ট্রের উপর ও পরে। পরিবারি একজন আক্রান্ত হলে সংক্রমিত হয়ে অন্য জনও আক্রান্ত হতে পারে। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যাক্তি উপার্যন তো করতে পারেই না বরং প্রতিদিন ঔষদের জন্য অর্থ ব্যায় হয়।

অথচ একটু সচেতন হলে এই নিরব ঘাতক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে এর টিকা প্রদান করলে।

হেপাটাইটিস ভাইরাসের চিকিৎসা।

বর্তমানে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস ভাইরাসের পরিক্ষা অর্থাৎ বাংলাদেশে এর চিকেৎসা করা হয়। ভাইরাস এ ও ই আক্রান্ত ব্যক্তিরা যথাযথ বিশ্রাম নিলে এই রোগ দুই থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে হাসপাতালের সরনা পন্ন হতে হয়।

ভাইরাস বি ও সি আক্রান্ত ব্যাক্তিদের ঝুকি বেশি এই ভাইরাসদ্বয় ধরা পরলে নিয়মিত চিকিৎসকের সাথে পরামর্শকরে এর আঘাত থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়। আক্রান্ত রোগীর খাবার দাবার, পোশাক পরিচ্ছেদ, এবং তারা ব্যাবহার্য জিনিস আলাদা রাখা। ফলে তার থেকে অন্যদের দেহে সংক্রমিত হতে পারবেনা। যাদের লিভারে ভাইরাস বংশ বৃদ্ধি করতে থাকে  তাদের ক্ষেত্রে ইনজেকশন বা মুখে নেওয়ার ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের ৯০ শতাংশ রোগী সফলতার সাথে রোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশে ভাইরাস জনিত লিভার ক্যান্সারের ক্ষেত্রে লিভার ট্রান্সপ্ল্যানটেশন করার চেষ্টাও বাংলাদেশের লিভার বিশেষজ্ঞরা শুরু করেছেন।

হেপাটাইটিস ভাইরাস থেকে মুক্তির উপায়…

উপরূক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারি যে, নিরব ঘাতক হেপাটাইটিস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ব্যাক্তি থেকে রাস্ট্রিয় প্রযায় প্রযন্ত এর সচেতনতা গরে তুলতে হবে। বিভিন্ন ভাবে এর প্রচার করে সাধারন মানুষের মধ্যে এই রোগের সর্ম্পকে ধারনা তৈরী করতে হবে। বাংলাদেশের হেপাটাইটিস বিশেষজ্ঞদের সরকারি পর্যায়ে উৎসাহ দিতে হবে।

 

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top