উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

10 months ago | Date : November 13, 2016 | Category : দীর্ঘস্থায়ী রোগ,বিবিধ | Comment : Leave a reply |

বর্তমান সারা বিশ্বে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষের উচ্চ রক্তচাপ।হৃদরোগ,কিডনি সমস্যা এবং ব্রেইন স্ট্রোক ইত্যাদি রোগের সবছেয়ে বড় কারন হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ।সুতরাং,এই রোগের চিকিৎসায় সবাইকে সচেতন করতে পারলে বিশাল জনগোষ্ঠি রক্ষা পাবে।সাধারনত উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা সারা বছর ধরে করতে হয়।অতএব এর সর্ম্পকে সাধারন জ্ঞান থাকা রোগীদের জন্য অতীব জরুরি।

ভালো একজন চিকিৎসক উচ্চ রক্তচাপ রোগীর চিকিৎসার আগে সাধারনত তিনটি বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করেন।প্রথমতঃ- রোগীর উচ্চ রক্তচাপ আছে কিনা,থাকলে তা কোন পর্যায়ের(হাই,লো)।দ্বিতীয়তঃ- এই রোগের ফলে তার কোন কোন অঙ্গে ক্ষতি হচ্ছে?তৃতীয়তঃ-উচ্চ রক্তচাপের সাথে তার শরীরের আর কোন রোগ আক্রমন করছে কিনা।উচ্চ রক্তচাপের কারনে দেহের যেসব প্রধান অঙ্গের ক্ষতি করে তাদেরকে টারগেট ওরগান ড্যামেজ(TOD)বলে।কিডনি ড্যামেজের জন্য রক্তের ক্রিয়েটিনিন সামান্য বেড়ে যাওয়া,অতিরিক্ত রক্তচাপের জন্য চোখের রেটিনায় সমস্যা দেখা দেওয়া,উচ্চ রক্তচাপের কারনে ধমনীর দেয়াল মোটা হওয়া(বিশষ করে যেটি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে),হৃৎপিন্ডের দেয়াল মোটা বা পুরু হয়ে যাওয়া,প্রসাবে সামান্য প্রোটিন বেড়ে যাওয়া,হার্ট ফেইলিওর হওয়া।

এছাড়াও পূর্ববর্তী রোগীদের জন্য উচ্চ রক্তচাপ খুবই ঝুকি পূন্য(বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাক,ব্রেন স্ট্রোক,অপারেশন উল্লেখিত রোগ গুলো পূর্ব যাদের হয়েছে)।

যেসব ব্যাক্তিদের উচ্চ রক্তচাপ তাদের কার্ডিওভাসকুলার রিস্ক বেশি থাকে(ধূম পান,কিডনির ক্ষতি হওয়া,ডায়াবেটিস,কোলেস্টেরল বেশি হওয়া)।

উচ্চ রক্তচাপের রোগীর চিকিৎসকের প্রধান কাজ হলো তার রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রনে আনা এবং টিওডি ও কার্ডিওভাসকুলার ঝুকিগুলো ভালো ভাবে অনুসন্ধান করা।

রোগীর উচ্চ রক্তচাপ ছাড়া অন্য কোন সমস্যা(TOD)না থাকলে রক্তচাপ ১৪০/৯০-এর নিছে থাকলেই চলবে।যদি ডায়াবেটিস বা টিওডি থাকে সে ক্ষেত্রে টার্গেটল থাকবে১৩০/৮০-এর নিছে।আর যদি কিডনি ড্যামেজ থাকে তা হলে রক্তচাপ হওয়া উচিৎ ১২৫/৭৫ বা এর নিছে। উল্লেখিত বিষয় গুলো সামনে রেখে একজন সেবক (ডাক্তার) রোগীর সেবা দিবেন।এবং রোগীর খাদ্য তালিকা দিবেন (অর্থৎ রোগী কোন খাদ্য বেশি খাবে এবং কোন গুলো কম খাবে)।

খাদ্য তালিকা এরূপ হওয়া চাই,খাবারে লবন(সোডিয়াম)একেবারে কমিয়ে দেওয়া।আশ যুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।পটাশিয়াম যুক্ত(বিভিন্ন ফল ও সবজি) খাবার বেশি খাওয়া।এগুলো রক্তচাপ কমায়।

১৭-ই মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবসে এবারের স্লোগান ছিল “লবন ও উচ্চ রক্তচাপ” দুটি নিরব ঘাতক। ভালো করে জানুন দীর্ঘদিন বাচুন।

(সারা বিশ্বে খাবারের লবন খাওয়া যদি অর্ধেক কমানো যায় তাহলে হয়ত প্রতি বছর ২৫ লাখ লোক হার্ট অ্যাটাক,ব্রেইন স্ট্রোক এবং কিডনি রোগ থেকে বেছে যেত।)চর্বিযুক্ত খাবার সরাসরি রক্তচাপের কোন ক্ষতি করেনা।তবে দেহের ওজন বাড়িয়ে রক্তের চর্বি বাড়িয়ে রক্তচাপ বাড়ায় সাথে হৃদরোগের ঝুকিও। খাদ্যের প্রোটিন যদি অ্যানিমেন সোর্স থেকে না এসে প্লান্ট সোর্স থেকে আসে(ডাল,শক সবজি)তা শরীরের জন্য ভালো।বিজ্ঞানিরা বলেছেন ওজন যদি বাড়ে ৫% তাহলে রক্তচাপ বাড়ে প্রায় ২০-৩০%।ওজন কমার সাথে সাথে রক্তচাপও কমে যায়।ধূমপান রক্তচাপের তেমন ক্ষতি করেনা তবে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরন হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি বাড়ায়।একই ভাবে খাবারের অতিরিক্ত অ্যালকোহল রক্তচাপ বাড়ায় কিন্তু সবছেয়ে বেশি ঝুকি থাকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনে।বিভিন্ন রোগের সমাধান দেয় শারিরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম।এটি ডায়াবেটিস কমায়,দেহের অতিরিক্ত ওজন কমায়,কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ কমায়।তাই প্রতিদিন অত্যন্ত ২৫-৩৫ মিনিট কায়িক পরিশ্রম বা হাঁটা অথবা ব্যায়াম করলে আপনার মন ভালো থাকবে এবং  শরীর থাকবে অনেকাংশে রোগ মুক্ত।

অতএব,অলসতা ছাড়ুন,হাটুন,দৌড়ান এবং লিফট ছেরে সিঁড়িতে উঠুন।

মানসিক চাপ(অতিরিক্ত পরিশ্রম,পারিবারিক জামেলা,ভয় ভিতি সংকোচ,পড়া-লেখার চাপ) বিভিন্ন রোগের কারন বিশেষ করে রক্তচাপ বাড়ায়।

মানসিক চাপ কমতে প্রচন্দের কাজ করুন,অতিরিক্ত পরিশ্রম কমান,অবসর সময় একা না থেকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিন,এবং পরিমান মতো ঘুমান।

পরিশেসে বলা যায়, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চিকিৎসক এবং রোগী উভয়ের প্রচেস্টা কাম্য।এখানে চিকিৎসক উপদেশ দিবেন এবং রোগী যথাসম্ভাব তা মেনে চলবে।তাহলেই এই নিরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবনে ফিরে আসতে পারব।

 

 

আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী

সহযোগী অধ্যাপক,কার্ডিওলজি ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top