যেসব কারনে কিডনি নস্ট হয়

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

10 months ago | Date : November 10, 2016 | Category : কিডনী | Comment : Leave a reply |

liverআমাদের দেহের অতিপ্রয়োজনীয় অঙ্গ গুলোর মধ্যে কিডনি প্রধান। অনেক সময় দেখা যায় কিডনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার মাসের পর মাস এবং বছরের পর ধরে এর তেমন কোন উপসর্গ দেখা যায় না। তার পার একসময় কিডনির কার্যকারিতা নস্ট হয়ে যায়। একে ফেইলুর (Kidney Failure)  বলা হয়। আমদের দুইটি কিডনির মধ্যে একটি যদি সম্পুন্ন নস্ট হয়ে যায় এবং অপরটি যদি সম্পুন্ন ভালো থাকে তাহলে একজন মানুষ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে। দুটু কিডনি যদি ৫০% করে নস্ট হয় তা হলেও মানুষ সুস্থ্য ও স্বাভাবিক থাকে এবং ৭৫% হলে এর লক্ষন গুলো ধরা পরে। লক্ষন গুলো ৯৫% ধরা পরলে রোগীকে কৃতিম উপায় (ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজন ) ছাড়া বাচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। যাকে বলা হয় এন্ড স্টেজ রেলাল ফেইল্যুর।।

যেসব কারনে কিডনি নস্ট হয়…

  • গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস বা কিডনির ছাকনির রোগ ৫০%-৫৫% ।
  • উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারনে কিডনির রোগ ১০%-১৫%।
  • ডায়াবেটিস জনিত কারনে কিডনির রোগ ১৫%-২০%।
  • প্রসাবের রাস্তায় পাথর ছাড়াও অনান্য কারনে ৫%-৭%।
  • ভূল ঔষধ ও ঔষধের পার্শপ্রতিক্রিয়া জনিত কারনে ৩%-৫%।
  • বংশানুক্রমিক জনিত কিডনির রোগ ৩%-৫%

কিডনি নস্ট হবার উপসর্গ…

আমরাতো এখন সবাই জানি দুটু কিডনি ৭৫% নস্ট হবার আগে এর উপসর্গ দেখা যায় না। ৭৫% এর বেশি হলে রোগীদের যেসব উপসর্গ গুলো দেখা যায় তা হলঃ- ভমি ভমি ভাব হওয়া, আহারে অনীহা ক্ষুদা মন্দা, চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া। দেহে কর্ম ক্ষমতা না থাকা। প্রসাবের প্রবনতা বেড়ে যাওয়া, শারিরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়া, রর্ম রোগ ছারাই চুলকানো আর যখন নস্ট হওয়ার শেষ পর্যায়ে তখন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। ঝিমানো ভাব এমনকি এক প্রযায়ে রোগী অজ্ঞান হতে পারে।

রোগীকে পরীক্ষা করে রোগীর রক্তের সল্পতা জানা যায়। কোন কোন রোগীর উচ্চ রক্ত চাপ ধরা পরে।

কোন কোন সময় দেখা যায় রোগীর হৃদপিন্ডের আবরনে পানি জমা হয়। এছাড়ও প্রয়োজনের তুলনায় দেহে বেশি পানি বা পানি শুকিয়ে চলা ফেরার শক্তি হাড়িয়ে পেলা ইত্যাদি।

কিডনির রোগ নির্নয়…

ক্রনিক রেনাল ফেইলুর রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও  প্রাথমিক ভাবে রক্তের ইউরিয়া ক্রিয়েটেনিন এবং এলেকট্রোলাইট পরিক্ষা করা হয়। কিডনি ড্যামেজ হওয়ার সাথে সাথে ক্রিয়েটিনিন ও ইউরিয়া বেড়ে যায়। কার্বনেট কমে যায় পটাশিয়াম বেড়ে যায়। ফসফেট বেড়ে যাওয়ার ফলে ক্যালসিয়াম কমে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের পার্শ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কিডনি ড্যামেজ হওয়ার কারনে জানার জন্য প্রসাবের এ্যালবুমিন রক্তে লোহিত ও শ্বেত কনিকা তা দেখে নেওয়া হয়।

প্রসাবে এ্যালবুমিন ২৪ গ্রামের বেশি হলে প্রথমিক ভাবে কিডনি ফেইলুরের কারন হিসাবে গ্লোমারুলোনেফ্রাইটিস ধরে নেওয়া হয়। কিডনির গঠন প্রনালী জানার জন্য আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়।

 কিডনি যখন ড্যামেজের শেষ পর্যায়ে তখন কিডনি তুলনা মূলক ভাবে ছোট হয়। দুটি কিডনিতে যদি অনেক গুলো সিস্ট থাকে তাহলে বংশানুক্রমিক কিডনি বা পলিসিস্টিক কিডনি ডিজেজ ধরা হয়।

এছাড়াও কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস, সি-ভাইরাস এইডস- ভাইরাস  আছে কিনা দেখা দরকার। ব্লাড গ্রুপ, রক্তের হিমোগ্লোবিন এইচএলএ টিস্যু এন্টিজেন পরিক্ষা করা প্রয়োজন।

কিডনি রোগীর চিকিৎসা ও তার প্রতিকার…

কিডনি রোগীর চিকিৎসা নির্ভর করে তার কিডনির অকার্যকারিতার উপর ভিত্তি করে। যেমন উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগীর চিকিৎসা এবং কিডনির ছাকনির চিকিৎসা এক নয়। আবার কিডনি ৭৫% ড্যামেজ হওয়ার চিকিৎসা আর ৯০% ড্যামেজ হওয়ার চিকিৎসা এক নয় । তবে দুটু কিডনির যদি ৯৫% ড্যামেজ হয়ে যায় তাহলে এর কার্যকারিতা ফেরানো সম্ভাব নয় । এমনতাই অবস্থায় প্রয়োজন হয় ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজনের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যাবস্থা। এই পদ্ধতি খুবই ব্যায়বহুল ও ঝুকি পূর্ন। তাই উচিৎ উপসর্গ দেখা দেওয়ার প্রথমিক পর্যায়েই অবিজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা চিকিৎসা করানো। যার জন্য প্রত্যেকের উচিৎ কিডনির রোগ বা এর উপসর্গ সর্ম্পকে প্রথমিক জ্ঞান বা সচেতন থাকা।

আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রয় ২০-২৫ হাজার মানুষ কিডনির রোগে মারা যায়।।

এই বিশাল জনসংখাকে বাচানোর জন্য প্রয়োজন সর্ব স্থরের মানুষের কাছে এই রোগের উপসর্গ সর্ম্পকে ধারনা দেওয়া। এইজন্য প্রয়োজন সরকারি ভাবে এর উদ্দ্যেগ নেওয়া। সাথে সাথে সামাজিক ভাবে এর উদ্দ্যেগ নেওয়া। তাহলেই এই বিশাল জনসংখাকে বাচানো সম্ভাব।

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top