এইচবিএস এজি পজিটিভ যকৃতের সমস্যা

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

12 months ago | Date : October 7, 2016 | Category : কিডনী,বিবিধ | Comment : Leave a reply |

kidneyএইচবিএস পজিটিভ বলতে কি বোঝায় ? এটা জানা কতটুকু প্রয়োজন ?? কি এর চিকিৎসা ?

ইত্যাদি নিয়ে আজকের এই পোস্ট।

এইচবিএজি এর অর্থ হল হেপাটাইটিস-বি সারফেস এন্টিজেন  এটি হেপাটাইটিস –বি ভাইরাসের দেহ থেকে নেঃসৃত হয়। যা শুধু হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হলেই রক্তের এইচবিএস এজি পিরীক্ষায় পজিটিভ হয়।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস কী ???  এবং কি ভাবে এরা শরীরে প্রবেশ করে ???

  • হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সুই বা সিরিঞ্জ দিইয়ে অন্য ব্যক্তিকে সুই করলে।
  • হেপাটাইটিস –বি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত অন্য ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করলে।
  • গর্ভবতী মা যদি এই ভাইরাসে আক্রান্ত থাকে তাহলে শিশুরও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আসঙ্কা থাকে।
  • বিভিন্ন হাসপাতাল, বিউটিপার্লার, ডায়াগনিষ্ট সেন্টার, সেলুনের যন্ত্র পাতির দ্বারা।
  • বিপদ জনক যৌন মিলনের মাধ্যমে।

এই রোগের কোন লক্ষন বা গতি প্রগতি ছাড়াই এই রোগের এই রোগ ধরা পরে।

যেমন; বিদেশে যাওয়ার আগে মেডিকেল করালে, কোন ব্যক্তিকে রক্ত দান কালে অর্থৎ যেকোন কারনে রক্ত পরিক্ষা করার সময় রক্তে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস ধরা পরতে পারে।

হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের কোন লক্ষন না থাকলেও এটি লিভারে মৃদু ইনফেকশন চালিয়ে যায়। যার ফলে ধীরে ধীরে এক সময় লিভারের ক্ষতি হতে থাকে। এই সময় একে বলা হয় ক্রনিক হেপাটাইটিস বা দীর্ঘস্থায়ী ইনফেকশন।

গর্ভবতী অবস্থায় লিভারের সিরোসিস এমন কি লিভার ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি থাকে।

কথায় আছে অন্ধ চায় দু চোখ। তেমনি যার হেপাটাইটিস এইচবিএস পজেটিব আছে সে চায় কি ভাবে পজেটিবকে নেগেটিভ করা যায়।

ইএচবিএস এজি নেগেটিভ করা হয় দুই ভাবে।

  • চিকিৎসার মাধ্যমে।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে।

সাধারনত ৯০ ভাগ লোক হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সর্ম্পূন সুস্থ হয়ে যায় (যাদের একিউট হেপাটাইটিস)।

বাকি ১০ ভাগের ৫ ভাগ সঠিক চিকিৎসায় সেরে উঠে এবং সম্পূন হেপাটাইটিস ভাইরাস মুক্ত হয়। আর ৫ ভাগ লোক সঠিক চিকিৎসার অভাবে অথবা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাবে মারা যায়। যাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা প্রয়োজন তারা মুখে খাওয়ার ঔষধ বা ইন্টারফেরন ইনজেকশন। শতকরা ৩০-৬০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসায় সফলতা দেখা যায়। সব রগীদের চিকিৎসা পদ্ধতি এক নয় বয়স বেদে এবং রোগের আক্রমনের তারতম্যের উপর ভিত্তি করে রোগীর চিকিৎসা করতে হয়। চিকিৎসার আগে ভালো ভেবে যাচাই করে নিতে হবে অন্য রোগ আছে কিনা (হেপাটাইটিস –সি)। তাছাড়াও এই রোগের চিকিৎসার আগে  রোগীর আর্থিক অবস্থা জানা প্রয়োজন।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়…

  • সুই নেওয়ার আগে দেখে নিবেন সিরিঞ্জ নতুন কিনা।
  • কোন ব্যক্তির রক্ত শরিরে প্রবেশ করার আগে তার রক্ত ভালো ভাবে পরিক্ষা করেনিন।
  • পরিবারের কারও হেপাটাইটিস –বি থাকলে অন্যরাও ভ্যাকসিন নিন।
  • দাত তোলার সময় জীবানু মুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুন।\
  • অনিরাপদ যৌন মিলন থেকে দূরে থাকুন।
  • ব্যাক্তিগত জিনিস (রেজার, নেইল কাটার, ব্রাস ইত্যাদি) অন্যকে ব্যবহার করতে দিবেন না।
  • হেপাটাইটিস-বি পজেটিভ মায়ের শিশুর ভূমিষ্ট হওয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের পরার্মশ অনুযায়ী টিকা নিন।

উল্লেখিত নির্দেশনা গুলোর প্রতি নজর রাখলে এই মারাত্নক ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভাব।

এইচ আফতাব রোজী একটিস্বাভাবিক

যকৃতের চিত্র গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও

লিভার বিশেষজ্ঞ

সহকারি অধ্যাপক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top