লবন নিয়ে আলোচনা!!!

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

10 months ago | Date : November 6, 2016 | Category : বিবিধ,হেলথ টিপস | Comment : Leave a reply |

saltআমাদের নিত্য প্রয়োজনীয়, গুরোত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য খাদ্য তালিকার একটি উপাদান হচ্ছে লবন। বিভিন্ন ধরনের লবন আছে। তবে এখন যে লবনের কথা বলছি অর্থৎ আমরা যে লবন খাই তা হচ্ছে সোডেয়াম ক্লোরাইড বা সাধারন লবন। এটি দেহের জলীয় অংশের সমতা রক্ষা করে। এছাড়াও পেশি সংকোচন, দেহের মধ্যস্থিত সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মধ্যে সমতা রক্ষা করে। কিন্তু অতিরিক্ত সোডিয়াম পটাশিয়ামকে নস্ট করে। তাজা ফল ও সবজিতে পটাশিয়াম বেশি থাকে এবং দুধ ও মাংশে সোডিয়াম বেশি থাকে। সামুদ্রিক লবন অথবা পাথুরে লবন, সব লবনেই থাকে সোডিয়াম, কপার, জিংক ও ম্যাগনেশিয়াম। সমুদ্রের বেশির ভাগই থাকে সোডিয়াম বা লবন। সমুদ্রের পানি বাষ্পিভূত করার পর ৭৫% সোডিয়াম এবং ২৫% অন্যান্য খনিজ পদার্থ পাওয়া যায়। খাওয়া ছাড়াও লবন আমাদের উপাকার আসে বা কাজে লাগে।যেমনঃপ্রতেষেধক হিসেবে, গলাব্যথায় লবন মিশ্রিত কুসুম গরম পানি দিয়ে গড় গড়া করলে উপকার পাওয়া যায়।এছাড়াও চুলকানি ও ব্যথা ইত্যাদিতে লবন মিশ্রিত পানি ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

বিভিন্ন খাদ্যের উপাদানে প্রচুর পরিমান সোডিয়াম থাকা সত্বেও স্বাদের জন্য বাড়তি লবন ব্যবহার করা হয়। লবন আমাদের সমস্ত শরীরে পানি বন্টন, বিপাক ও পরিপাক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আমাদের শরীরের জন্য দৈনিক চার থেকে ছয় গ্রাম লবন প্রয়োজন। কিন্তু দৈনিক আমরা যে লবন গ্রহন করি তা প্রয়োজনের তুলনায়  অনেক বেশি। কিডনির মাধ্যমে অতিরিক্ত লবন পরিত্যক্ত হয়।  আমরা লবন যদি কম খাই, তাহলে কিডনি সোডিয়াম ক্লোরাইডের, , ,কমিয়ে নির্ধারিত হারটি বজায় রাখে।, , , কাজটি করে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত অ্যালডেস্টেরম নামের হরমোন এই হরমোন ক্ষরন কমে গেলে প্রসাবের মাধ্যমে সোডিয়াম , , , বৃদ্ধি পায়। আবার হরমোনের আধক্য ঘটলে সোডিয়াম জমে শরীর ফুলে যায়। একই ভাবেনেফ্রাইটিস ও হৃৎপিন্ডের অসুখে কার্ডিয়াক ফেইলিওর হলে সোডিয়াম জমে শরীরে পানি জমে যায়। আমাদের দেহ থেকে প্রসাব ছাড়াও ঘামের মাধ্যমে অনেক লবন বের হয়।তাই প্রচন্ড গরমে যখন শরীর থেকে ঘাম বের হয় তখন লবন মিশ্রিত পানি অথবা স্যালাইন খেতে দেওয়া হয়। আমাদের অতি পরিচিত রোগ ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খেতে দেওয়া হয়।জ্বরের সময় লবন মিশ্রিত পানি পান করলে উপকার পাওয়া যায়।

দেহের জন্য লবন যেমন উপকার করে তেমনি ভাবে এই লবনই দেহের প্রাণ ঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।

তাই আমাদের বিভিন্ন রোগে লবন নিয়ন্ত্রন করা অতিব জরুরি।

বিভিন্ন রোগ যেমনঃ- কিডনির অসুখ, হার্টের অসুখ, নিফ্রাইটিস, নেফ্রোসিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং লিভার সিরোসিস ইত্যাদি রোগের দুশমন হচ্ছে লবন। তাই এই অবস্থায় যেসব খাদ্যে লবন বেশি আছে তা পরিহার করা বা কম খাওয়া। যেমনঃ-দুধ, ডিম, মাংশ, গাজর, শিম ইত্যাদি।

লবনের মাত্রা নির্ধারন করা হয়, রোগের তীব্রতার উপর ভিত্তি করে। তবে সব রোগের জন্যই কাঁচা লবন (আলাদা লবন) ত্যাগ করা ভালো।

দৈনিক ৫০০-৭৩০ মিলিগ্রাম সামান্য নিয়ন্ত্রন আর ২০০-২৫০ একটু কঠিন। সোডিয়াম যুক্ত খাবার খেলে উচ্চ রক্তচাপ, শোথ, চোখে লাল নিল দেখা এবং প্রোটিন ইউরিয়া প্রতিরোধ করে। অনেকের ধারনা লবন কম খেলে দেহের ওজন কমে যাবে। তবে হ্যা আপনার উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের কথা ভেবেইতো চিকিৎসক লবন খেতে না বলেছেন।

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags: ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top