তেজস্ক্রিয়তা থেকে গর্ভের শিশুকে বাঁচান

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

10 months ago | Date : October 21, 2016 | Category : ডায়াবেটিস,বিবিধ,হেলথ টিপস | Comment : Leave a reply |

infant-of-heroshima-japanগর্ভের শিশু নানা ভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মির তেজস্ক্রিয়তার আঘাতে পরতে পারে।সাধারনত গর্ভাস্থ মা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মির কাছে আসেন এবং এ থেকেই গর্ভস্থ শিশুর কাছে পৌছায়।অনেক সময় গর্ভস্থ মা রোগ মুক্তির জnfantন্য তেজস্ক্রিয় পদার্থযুক্ত ঔষধ খান। এই ঔষধ মায়ের মুত্রাশয়ের দেয়ালে অনেক দিন জমা থাকে এবং মুত্রাশয়ের পিছনি অবস্থিত জরায়ু ও ভ্রুণের ওপর তেজস্ক্রিয় রশ্মি ছড়িয়ে দিতে পারে।

পৃথীবির সকল মানুষ প্রতিনিয়ত অল্পমাত্রায় তেজস্ক্রিয় রশ্মির সম্মুখীন হচ্ছে।এগুলোর উৎস হচ্ছে প্রকৃতিক তেজস্ক্রিয় পদার্থ,যা বায়ুমন্ডল বেদ করে ভূপৃষ্ঠে চলে আসে।পৃথীবিতে প্রকৃতিক তেজস্ক্রিয় রশ্মি অল্পমাত্রায় বিরাজ করে।

তেজস্ক্রিয় রশ্মির কার্যকর মাত্রার একক কে বলা হয় মিলি সিভার্ট।সাধারনত একজন মানুষ প্রতি বছর তিন মিলি সিভার্ট প্রকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখিন হন।তিন মিলি সিভার্ট গর্ভবর্তী মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়।এছাড়াও মা ও শিশু বিভিন্ন ভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মির সম্মুখীন হতে পারে।যেমনঃসিটিস্ক্যান,এক্স-রে,রেডিও থেরাপি,ফ্লুরোস্কোপি অথবা তেজস্ক্রিয় পদার্থ যুক্ত ঔষধ গ্রাহনে।গর্ভবর্তী মহিলাদের চিকিৎসায় বেশি মাত্রায় তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার করলে গর্ভস্থ ভ্রুন বা শিশুর ক্ষতি হতে পারে।তাই গর্ভাস্থ মহিলাদের চিকিৎসার সময় বিশেষ সর্তকতা অবলম্ভন করা উচিৎ।

সাধারনত বিভিন্ন রোগ নির্নয়ের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তার যে পরিমান ব্যবহার করা হয় ।তা প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় রশ্মির ১০ গুন।কিডনি ও মূত্রাশয় পরিক্ষার জন্য ব্যবহৃত আই ভি পি তেজস্ক্রিয়তার পরিমান বা মাত্রা প্রায় দুই বছরের প্রকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার সমান।মূল কথা হল রোগ নির্নয়ে ব্যবহৃত্ব তেজস্ক্রিয় রশ্মির মাত্রা  প্রকৃতেক তেজস্ক্রিয় রশ্মির ছেয়ে অনেক বেশি কিন্তু গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর ক্ষতি হওয়ার মতো নয়।

সধারনত গর্ভাস্থায় ভ্রুন বা শিশুর ক্ষতি হওয়ার জন্য তেজস্ক্রিয় রশ্মির মাত্রার প্রয়োজন ২০০ মিলি সিভার্ট।কিন্তু যদি ভ্রুণের বয়স দুই সপ্তাহের কম হয় তাহলে ৫০ মিলি সির্ভাট তেজস্ক্রিয়তায় গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে।এসব ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মহিলারা বুঝতেই পারেনা যে তিনি গর্ভবর্তী হয়েছেন।রোগ নির্নায়ের জন্য যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার করা হয় সাধারনত তার মাত্রা ১০ সির্ভাটের চেয়েও কম।অতএব তেজস্ক্রিয় রশ্মি দিয়েই নিরাপদ ভাবে রোগ নির্নয় করা যায়।তাছাড়া তেজস্ক্রিয় রশ্মি দিয়ে রোগ নির্নয় করলেই যে ভ্রুনের ক্ষতি হবে তা না।কারন তেজস্ক্রিয় রশ্মি চলাচল করে সরল পথে।তাই শুধু জরায়ুর আসে পাসের অঙ্গের পরিক্ষা করলেই ভ্রুণ তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখিন হন।এর চেয়ে দূরের অঙ্গের পরিক্ষা করলে বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু রশ্মি ভ্রুণ প্রযন্ত পৌছাতি পারে,তবে এর মাত্রা অনেক কম।

কিছু অঙ্গের পরিক্ষায় সরাসরি ভ্রুণে তেজস্ক্রিয়তা পৌছাতে পারে।যেমনঃমেরুদন্ডের নিচের অংশের এক্স-রে বা সিটিস্ক্যান,মূত্রাশয় ও কিডনি দেখার জন্য আই ভি পি,জরায়ুর গঠন দেখার জন্য হিস্টেরোসালফিঙ্গোগ্রাম এক্স-রে,ক্ষুদ্রান্ত ও বৃহদন্ত্রের পরিক্ষা এবং তলপেটের পরিক্ষা ইত্যাদি।

রোগ নির্নয় ছাড়াও বিভিন্ন চিকিৎস ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

যেমনঃক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি,আবার বিভিন্ন রোগের জন্য তেজস্ক্রিয় পদর্থ যুক্ত ঔষদ দেওয়া হয়।যা ভ্রুনের জন্য ক্ষতিকর।

গর্ভাস্থ শিশুর উপর তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব তার তেজস্ক্রিয়তার মাত্র ও সময়ের উপর নির্ভর করে।শিশুর বয়স যত কম হয় তেজস্ক্রিয়তা সহনশীলতাও তত কম হয়।আবার তেজস্কিয়তার মাত্রা অনেক দিন ধরে কার্যকরিতা থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি থাকে।

গর্ভস্থ শিশুর উপর তেজস্কিয়তার প্রভাব পরলে পরবর্তী তে তার ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি থাকে।গর্ভধারনে সক্ষম প্রত্যেক নারীর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে চিকিৎসককে তার সর্ম্পকে সব কিছু খুলে বলা।তিনি গর্ভবর্তী হয়েছেন কিনা বা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা।এতে চিকিৎসক আপনার সর্ম্পকে সঠিক ধারনা পাবে ।ফলে আপনার কে তেজস্ক্রিয় পদার্থ যুক্ত ঔষধ দিবেনা।বিভিন্ন সময় দেখা যায় সিটিস্কেন বা এক্স-রে করার পর বুঝতে পারেন যে পরিক্ষার সময় তিনি গর্ভবর্তী ছিলেন ।এতে ভয়ের কারন নেই এতে তেজস্ক্রিতার মাত্রা থাকে খুবই সামান্য পরিমান যা আপনার গর্ভস্থ ভ্রুন বা শিশুর ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই।

যেসব ক্ষেত্রে ভ্রুন বা শিশুর উপর সরাসরি তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রভাব পরার আশঙ্কা থাকে,সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে বিকল্প চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।জরায়ুর বাহিরের অঙ্গ প্রতঙ্গের পরিক্ষার সময় পেটের উপর তেজস্ক্রিয় প্রতিরোধক পর্দা রাখার ব্যবস্থা করা।

গর্ভবর্তী অবস্থায় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে কেননা ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে উঠা যায় প্রকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব তত বাড়তে থাকে।তবে অল্প সময় বিমানে থাকলে সমস্যা নেই , কারন প্রকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার পরিমান খুবই কম।কিন্তু দূরপাল্লার যাত্রা এবং বার বার বিমানে চড়ার ফলে ক্ষতির আঙ্কা থাকে।

বিঃদ্রঃমনে রাখতে হবে সকল ভালোর পিছনে খারাপ আছে।অতএব, প্রায় সকল ঔষধ উপকারের পাশা পাশি কিছু ক্ষতিও করে। তবে সঠিক মাত্রায় এবং নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে ব্যবহার করলে ক্ষতি কর দিক গুলো এড়ানো সম্ভাব।

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top