কিডনিতে পাথর

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

10 months ago | Date : October 12, 2016 | Category : কিডনী,ক্রনিক রোগ | Comment : Leave a reply |

kidneyকিডনির যত রোগ আছে তাদের মধ্যে কিডনিতে পাথর অন্যতম। বাংলাদেশে প্রতি বছর পাথর জনিত কিডনির কারনে মারা যান। বিভিন্ন কারনে কিডনিতে পাথর হতে পারে। কিন্তু একটু সচেতন হলে অর্থৎ খাদ্য তালিকা তৈরী করে সেই অনুযায়ী খাদ্য গ্রাহন করলে।

তাহলে আগে জানতে হবে কিডনিতে পাথর কি ???

কিডনিতে পাথর বলতে বুঝায় বিভিন্ন খাবারের অংশ একত্রে জমা হয়ে কিডনিতে এসে কঠিন পদার্থ পরিনত হয় একেই কিডনির পাথর বলা হয়। সাধারনত অম্ল লবন এবং খনিজ পদার্থ দিয়ে কিডনির পাথর তৈরী হয়। কিডনিতে বিভিন্ন কারনে পাথর হতে পারে। তবে প্রসাব গাঢ হলে তা খনিজ কনা গুলোক দানা বাধতে সহায়তা করে এবং এক সময় তা পাথরে রোপ নেয়।

  কিডনিতে পাথর হলে যেসব লক্ষন…

মূত্রনালীতে পাথর হলে কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষন বা উপসর্গ দেখা দেয়। কিডনিতে পাথর হলে যেসব লক্ষনঃ-

  • কিডনিতে পাথর হলে প্রসাবে জ্বালা পোড়া।
  • বার বার প্রসাবের বেগ হয়।
  • প্রসাবের রং লাল, গোলাফি বা বাদামী হয়।
  • পিঠের দুই পাশে এবং পাজরের নিছে ব্যথা হয়ে তলপেটে ও কুচকিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • বমি বমি ভাব হয় অথবা বমি হয়।
  • সংক্রমন হলে কাপুনী দিয়ে জ্বর হয়।

উপরুক্ত লক্ষন গুলো দেখা দিলে যত তারাতারি সম্ভাব চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এর চিকিৎসা করা হয়।

এই রোগের পরিক্ষা- নিরীক্ষা হিসাবে প্রসাব পরিক্ষা, রক্ত পরিক্ষা, এক্স-রে বা কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফী (সি টি) করাতে পারেন।

কিডনিতে পাথর যুক্ত রোগীদের চিকিৎসত…

কিডনির পাথর আকারে ছোট হলে তেমন বেশি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে এইক্ষেত্রে যা করনীয়।

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমানে অর্থৎ ১.৯-২.৮ লিটার পানি পান করা প্রয়োজন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথা নাশক ঔষধ সেবন করা।

পাথর আকারে বড় হলে যা করনীয়…

  • শ্বদ তরঙ্গ ব্যবহার করে পাথর ধ্বংশ বা ভাঙ্গা যায়।
  • ইউরেটেরোস্কোপ (Ureteroscope) ব্যবহার করে পাথর পাথর অপসারন বা সরানো যায়।
  • অপারেশনের মাধ্যমে পাথর সরানো যায়।

কিডনির পাথর প্রতিরোধ করার কিছু উপায়…

  • প্রতিদিন প্রযাপ্ত পরিমান পানি পান করা।
  • খাবারে অল্প লবন ব্যবহার করা।
  • অল্প পরিমানে প্রনিজ আমিষ খাওয়া।
  • ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া, তবে ক্যালসিয়ামের সম্পুরকের ক্ষেত্রে সতর্কতা মেনে চলা।
  • বেশি অক্সালেট যুক্ত (চা, চকলেট, মিষ্টি আলু, পালং শাক এবং সয়াজাতীয় খাদ্য ইত্যাদি) খাবার পরিহার করা।

কিডনিতে বিভিন্ন ধরনের পাথর হয়ে থাকে। যেমনঃ-

  • বেশির ভাগ কিডনেতে দেখা যাচ্ছে ক্যালসিয়াম পাথর। সাধারনত খাদ্য ব্যবস্থায় কিছু খাবারে উচ্চ মাত্রায় অক্সলেট ও ভিটামিন –ডি আছে মূলত এসব কারনে কিডনিতে পাথর বেশি হয়ে থাকে। যেমন; কিছু ফলমূল শাক সবজি চকলেট ও বাদামে উচ্চ মাত্রায় অক্সলেট আছে। এছাড়াও উচ্চমাত্রার ভিটামিন-ডি অন্ত্রের বাইপাস সার্জারি ও বিভিন্ন ধরনের বিপাকীয় সমস্যার কারনে প্রসাবে পাথর ঘনীভূত হয়।
  • সিস্টিন পাথরঃ সাধারনত বংশ গত কারনে এই পাথর হয় যার ফলে কিডনি থেকে অতিরিক্ত পরিমান এমিনো এডিস বের হয়ে যায়।
  • স্ট্রুভাইট পাথরঃ মূত্রধারে সংক্রমনের ফলে এই পাথর হয় এবং খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় বড়ও হয়।
  • ইউরিন এসিড পাথরঃ উচ্চ আমিষ যুক্ত খাবার গ্রহন, পানি শূন্যতা গেটে বাত এই পাথরের কারন।

যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে…

  • যারা উচ্চ অমিষ (মাংশ, দুধ, ডিম), উচ্চ চিনিযুক্ত খাবার এবং অতিরিক্ত লবন (সোডিয়াম) যুক্ত খাবার খান।
  • যাদের পানি শূণ্যতা আছে । অর্থৎ পানি কম পান করেন যারা।
  • পারিবারিক ইতিহাস। অর্থৎ পরিবারে কারো থাকলে।
  • যাদের খাদ্য নালী বা হজম প্রকৃয়ায় সমস্যা।
  • চল্লিশ বা চল্লিশের বেশি বয়সের ব্যক্তিদের (বিশেষ করে পুরুষ)।
  • স্থুলকায়দের।

উপরোক্ত তথ্যের আলোকে জীবন পরিচালনা করলে অনেকাংশে কিডনি রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

সূত্রঃ জাতীয় ই-তথ্যকোষ।

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top