যক্ষ্মা কেবল ফুসফুসেই হয় না

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

8 months ago | Date : November 18, 2016 | Category : দীর্ঘস্থায়ী রোগ,যক্ষ্মা | Comment : Leave a reply |

যক্ষ্মাযক্ষ্মা শুধু ফুসফুসেই নয় বরং দেহের যেকোন স্থানে হতে পারে।এবং ফুসফুসের বাহিরে নাসিকা গ্রন্থির যক্ষ্মা বা টিবি লিম্ফেডিনাইটিস সবছেয়ে বেশি হয়ে থাকে। লসিকা গ্রন্থির যক্ষ্মা আমাদের দেশে সাধারন একটি সমস্যা। আমাদের দেহে ছড়িয়ে রয়েছে জালের মতো অতি সূক্ষ্ম লসিকা নালী ও বিভিন্ন স্থানে কিছু লসিকা গ্রন্থি। এই নিয়েই লসিকার অবস্থান। এর প্রধান কাজ রোগ প্রতিরোধ করা এবং রক্তে চর্বি বহন করা। যক্ষ্মার জীবানু লসিকা ব্যবস্থাকে আক্রমন করে লসিকা গ্রান্থিতে বাসা বাধে। ফলে লসিকা গ্রান্থির জায়গায় ফুলে উঠে।

যেমন – বগলের কুচকিতে,গলার সামনের দুই দিকে আবার কখনো বুক বা পেটের ভিতরকার গ্রান্থি আক্রান্ত হয়। বিভিন্ন করনে এই রোগ হয়। যেমনঃ

  • ঘন ঘন জনবসতি ও অস্বাস্থ্য কর পরিবেশ।
  • ভেজা সেতে সেতে স্থানে দীর্ঘদিন বসবাস করলে।
  • যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে থাকলে।
  • তিন সপ্তাহের বেশি শুকনা কাশি থাকলে।

যক্ষার লক্ষন…

জ্বর জ্বর ভাব থাকা, খাওয়ায় অরোচি লাগা, স্বাস্থ্য ভেঙ্গে যাওয়া ইত্যাদি। আর এর প্রধান লক্ষন হচ্চে গলার দুইদিকে গ্রন্থি ফুলে উঠা এবং ধীরে ধীরে বড় হওয়া। প্রাথমিক অবস্থায় ফোলা স্থান গুলো ব্যাথাহীন থাকে তখন একে কোল্ড অ্যাবসেস বলাহয়। এই কোল্ড অ্যাবসেস ৩০-৪০% লোকের ফেটে গিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু বুক বা পেটের ভিতর কার গ্রান্থি ফুলে গেলে তা বাহিরে থেকে দেখা যায় না। এই সময় সাধারনত রক্ত পরিক্ষার পাশাপাশি আক্রান্ত গ্রান্থি কেটে নিয়ে বায়ো পসি পরিক্ষার প্রয়োজন হয়।

বর্তমান বাংলাদেশে যেকোন যক্ষ্মার চিকিৎসায় ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভাব। টিস্যু বায়োপাসি বা এফ এন এসি পরিক্ষায় যক্ষ্মা নিশ্চিত হওয়ার পর দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। যক্ষ্মা রোগে অত্যন্ত ৬ মাস ঔষধ খাওয়া লাগে। সকল ওষধই চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী খেতে হবে।

ওষধ শুরু করার প্রথমিক প্রযায়ে এর পার্শ প্রতিক্রিয় হিসাবে আক্রান্ত গ্রান্থি একটু বড় বা নতুন করে গ্রান্থি ফুলে যেতে পারে এতে কোন ভয় নেই। ওষধ চালিয়ে যেতে হবে।

ডা. মৌসুমি মরিয়ম সুলতানা

মেডিসিন বিভাগ, ইউনাইটেড হাসপাতাল।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ৩ জানোয়ারী ২০১৪

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top