গর্ভাবস্থায় মহিলাদের আল্ট্রসনোগ্রাফি…

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

11 months ago | Date : September 19, 2016 | Category : Uncategorized,হেলথ টিপস | Comment : 1 Reply |

pragencyগর্ভাবস্থায় বিশেষ এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহিলাদের গর্ভে ভ্রুণ বেড়ে ওঠে।এক সময় তা শিশুর রূপ ধারন করে।এমনতাই অবস্থায় তার চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরিক্ষাটি অত্যান্ত জরুরি।পরিক্ষাটি বর্তমানে পার্শপ্রতিক্রিয়া হীন,নিরাপদ,সহজলভ্য ও বেশ জনপ্রিয়।

যেসব কারনে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়…

আল্ট্রাসনোগ্রাফির প্রধান কাজ হচ্ছে গর্ভধারন হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা।পূর্ববর্তী মাসিকের সাড়ে চার সপ্তাহের(৩১-৩২দিন) মধ্যে গর্ভাশয়ের থলে এবং পাচ(৩৫ দিন) সপ্তাহের মধ্যে গর্ভাশয়ের থলের মধ্যে আরেকটি থলে( ইয়ক স্যাক) দেখে শনাক্ত করা হয় গর্ভধারন হয়েছে কি না।এবং সাড়ে পাঁচ সপ্তাহ(৩৭-৩৮দিন) পর ভ্রুন দেখা যায়।

হৃৎপিন্ডের চলাচলের পর্যবেক্ষণ…

গর্ভধারনের ছয় সপ্তাহের মধ্যে পালস ডপলার সনোগ্রাফির মাধ্যমে ভ্রুনের হৃৎপিন্ডের চলাচল বোঝা যায়।এবং সাত সপ্তাহের মধ্যে সাধারন গ্রে-স্কেল আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রেও (যার মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ ও টিস্যু দেখা যায়) ধরা যায়।আবার সাত মিলিমিটার উচ্চতার ভ্রুনের হৃৎপিন্ডের চলাচল বুঝতে না পারলে ভ্রুণের মধ্যে প্রণ নেই বলে সন্দেহ করা হয়।তবে সম্পূন নিশ্চিৎ হওয়ার জন্য ৭-১০ দিন পর আবার আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে ভ্রুণের হৃৎস্পন্দন আছে কি না তা পরিক্ষা করা প্রয়োজন।বর্তমান আধুনিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রের মাধ্যেমে অপেক্ষাকৃত কম বয়সের ভ্রুন শনাক্ত করা এবং সাথে হৃৎস্পন্দনো যানা যায়।

ভ্রুনের বয়স নর্ধারন…

ভ্রুনের উচ্চতা,মাথার দুই প্রান্তের দূরত্ব,পায়ের বড় অস্থি ভ্রুণের বয়সের সাথে সুনির্দিষ্ট সামঞ্জস্য রেখে বৃদ্ধি পায়।এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে এই পরিমাপ গুলো নিয়েই ভ্রুণের বয়স নর্ধারন করা হয়।মাথার দুই প্রন্তের দূরত্ব,পেটের পরিধির মাপ ইত্যাদি দিয়ে সাধারনত ভ্রুণের ওজন সর্ম্পকে ধারনা করা হয়।

ভ্রুণের সংখ্যা নির্ণয়…

আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে ভ্রুনের সংখ্যা নির্ণয় করা যায়।সাধারনত ভ্রুণের সংখ্যা ১,২,৩ বা এর বেশি হয়।

গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন বিকৃতি…

আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে গর্ভাস্থ শিশুর বিকৃতি নির্ণয় করা হয়।যেমনঃমাথা বিহীন ভ্রুন,খর্বাকৃতি ,মাথায় অতিরিক্ত পানি জমা,মেরুদন্ডের বিকৃতি,প্রসাবের থলের সমস্যা,হৃৎপিন্ডের সমস্যা ইত্যাদি।

গর্ভফুলের অবস্থান জানা…

গর্ভফুল তৈরী হয় গর্ভকালীন সময়ে।যা জরায়ুর ভিতরের দেয়ালে লেগে থাকে।এই গর্ভফুলের মাধ্যমেই মা ও ভ্রুণের যোগাযোগ হয়।জরায়ুর কোন স্থানে গর্ভফুল আছে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।জরায়ুর নিচে গর্ভফুল থাকলে তাকে বলে প্লাসেন্টে প্রিভিয়া।এই সময় প্রচুর রক্তপাত হতে পারে।গর্ভফুল নিজেই প্রসাবের রাস্তা বন্ধ করে দিতে পারে।তাই এমনতাই অবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে গর্ভফুলের অবস্থান জানা অতিব জরুরি।

গর্ভাশয়ের পানির পরিমান বের করা…

গর্ভাশয়ের থলে তরলে পূর্ণ থাকে।এর নাম অ্যামনিয়টিক ফ্লুইড।এই তরলের মাধ্যে ভ্রুণ ডুবে থাকে।গর্ভাশয়ের থলেতে পানি কম বা বেশি হওয়া উভই ক্ষতিকর।আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাতধ্যমে এই পানির পরিমান নির্ধারন করা হয়।এছাড়া গর্ভস্থ শিশুর প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাসের সংখ্যা,জরায়ুর ভিতর ভ্রুনের মৃত্যু,ব্লাইটেড ওভাস,হৃৎস্পন্দন সহ ভ্রুনের বাহ্যিক অবস্থান ইত্যাদির পরিক্ষাও আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে করা হয়।

ডপলার আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরিক্ষা করতে হবে…

গর্ভাবস্থায় প্রতিশব্দ পরিক্ষা করার কোন নির্ধারিত নিয়ম বা সময়সূচি নেই।কোন সমস্যা বা সন্দেহ থাকলে পরিক্ষাটি করানো হয়।গর্ভধারনের ৭ সপ্তাহ পর আল্ট্রাসনোগ্রাফি করালে গর্ভবাস্থায় থাকা শিশুকে এবং এবং হৃৎপিন্ডের চলাচল বোঝাযায়।নাকের হাড় এবং ঘাড়ের পিছনের দিকের পানি পূর্ণ থলে দেখা হয় ১১-১৪ সপ্তাহের মধ্যে।যার মাধ্যমে মানসিক ও শারীরিক ত্রুটিযুক্ত শিশুর প্রসাবের আশঙ্কা থাকলে তা বোঝাযায়।১৮-২০ সপ্তাহের দেকে গঠন গত ত্রুটি গুলো আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে জানা যায়।২৪ সপ্তাহ পর গর্ভাবস্থা শিশুর লিঙ্গ নির্ধারন করা হয়। বিশ্বের অনের দেশে গর্ভাবস্থ শিশুর লিঙ্গ উল্লেখ্য না করার জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারনত ৩২ সপ্তাহ পর ভ্রুনের ওজন, বৃদ্ধি এবং বাহ্যিক অবস্থান জানা যায়। পূর্বে করা আল্ট্রাসনোগ্রাফিগুলোতে কোন সন্দেহ থাকলে এই সময় তা সমাধান হয়ে যায়।

মন্তব্য…

সিটিস্ক্যান,এক্স-রে ইত্যাদি পরীক্ষায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রশ্মি ব্যবহার করা হয় যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে অতিশব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।

এই তরঙ্গের আজ প্রর্যন্ত ক্ষতিকর কোন দিক পাওয়া যায়নি।তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলে গর্ভাবাস্থায় বার বার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো উচিৎ নয়।এই সময় যে কোন প্রয়োজনে সার্বক্ষনিক চিকিৎসকের পরার্মশ অনু্যায়ী কাজ করা ভালো।

 

 

মোঃতরিকুল ইসলাম

রেডিওলজি ও ইমিজিং বিশেষজ্ঞ

এম এ জি ওসমানী মিডিকেল কলেজ হাসপাতাল,সিলেট।

Save

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags: ,

One response to “গর্ভাবস্থায় মহিলাদের আল্ট্রসনোগ্রাফি…”

  1. KennWeteReef says:

    Can I Take Metamucil With Amoxicillin viagra Buy Accutane Online Cheap Levitra Elado Cephalexin And Bladder Infection

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


↑ Top